শহীদ নূর হোসেন



BDT104.00
BDT130.00
Save 20%

একজন নূর হোসেন। উদোম গা, জামাটা কোমরে বাঁধা। উত্তোলিত মুষ্টিবদ্ধ হাত, বুকে-পিঠে লেখা—স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক। গণতন্ত্রের মুক্তির মিছিলে শামিল হয়ে ঢাকার রাজপথে শহীদ হলেন তিনি। হয়ে উঠলেন গণতন্ত্রের লড়াইয়ের মহান প্রতীক। তাঁকে নিয়ে শামসুর রাহমান লিখলেন অমর কবিতা ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’। কিন্তু কে এই নূর হোসেন? তৎকালীন সাপ্তাহিক একতার সম্পাদক মতিউর রহমান দেখা পান নূর হোসেনের বাবা ট্যাক্সিচালক মজিবুর রহমানের। জানলেন নূর হোসেন এবং তাঁদের পরিবারের কথা, তাঁদের জীবনসংগ্রাম ও দেশ নিয়ে প্রত্যাশার কথা। এই ইতিবৃত্ত এবং নূর হোসেনকে নিয়ে কবি শামসুর রাহমানের তিনটি কবিতার সম্মিলন এ বই। 

Quantity


  • Security policy (edit with Customer reassurance module) Security policy (edit with Customer reassurance module)
  • Delivery policy (edit with Customer reassurance module) Delivery policy (edit with Customer reassurance module)
  • Return policy (edit with Customer reassurance module) Return policy (edit with Customer reassurance module)

Data sheet

Title
শহীদ নূর হোসেন
Author
মতিউর রহমান
শামসুর রাহমান
Publisher
প্রথমা প্রকাশন
ISBN
9789849025573
Publishing year
2013
Binding
Hard binding
Language
বাংলা
Number of page
63

Reviews

শহীদ নূর হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি

| 12/11/2019

শহীদ নূর হোসেনের বীরত্বসূচক আত্মদানের মর্ম এখনো প্রাসঙ্গিক। কেননা, আমাদের জাতীয় জীবনে গণতন্ত্র এখনো তার সুস্থ শিকড় বিস্তার করতে পারেনি। এখনো দৃঢ়তা পায়নি তার ভিত্তি। ফলে যে লক্ষ্যের অভিসারী হয়ে নূর হোসেনের সচেতন আত্মদান, সেই লক্ষ্য যত দিন না অর্জিত হবে, তত দিন এই বীর শহীদের স্মৃতি ম্লান তো হবেই না, বরং তা উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হবে। চলতি বছরের নভেম্বরে যখন শহীদ নূর হোসেন বইয়ের দ্বিতীয় পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয়, তখন তা সত্যিকার অর্থেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে এই অর্থে যে গণতন্ত্রের মুক্তির সংগ্রাম আবার নতুন মাত্রায় উপনীত। তার যাত্রা আবারও সংকট-সংকুল হয়ে উঠেছে। ফলে এই গ্রন্থের পাঠ যে আমাদের পুনরায় উজ্জীবিত করবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বাঙালি জাতির অনেক ত্রুটির একটি বড় ত্রুটি এই যে, সে তার সামাজিক, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক জীবনের স্মরণীয় ঘটনাধারার ইতিহাস রচনা ও তার সংরক্ষণে চরমভাবে উদাসীন। এই অভিযোগ নতুন কিছু নয়। আমরা একটু লক্ষ করলেই এর প্রচুর দৃষ্টান্ত পাব। সে বিচারে শামসুর রাহমান ও মতিউর রহমান রচিত বইশহীদ নূর হোসেন-এর বর্তমান প্রকাশ-ঘটনা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। সামাজিক ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এই বইয়ের দালিলিক মর্যাদা অপরিসীম। কবি শামসুর রাহমান তাঁর গ্রন্থধৃত তিনটি কবিতায় একজন যুবকের আত্মদানকে যে কাব্যিক-কারুতায় চিত্রিত করেন, তা কলোত্তীর্ণতার স্বাক্ষরবাহী। মতিউর রহমান তাঁর ছয়টি নিবন্ধ ও প্রতিবেদনের মাধ্যমে শহীদ নূর হোসেন, তাঁর পিতা ও পরিবারের সংগ্রামী জীবনকে যেভাবে তুলে ধরেন এবং যতটা অনুপুঙ্খভাবে, তা সত্যিই সামাজিক ইতিহাসের এক দৃষ্টান্তস্থানীয় ভাষ্য। একজন যুবক, যিনি ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ ও ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ কথাগুলো বুকে-পিঠে লিখে সচেতনভাবে পথে নামেন, মৃত্যুকে পায়ের ভৃত্য করেন, মতিউর রহমানের অনুসন্ধানী নিবন্ধ থেকে যখন জানতে পারা যায়, তাঁর শাহাদাতবরণের পর জানাজার গোসল করানোর সময় অনেক কষ্টেও সেই লেখা ধুয়ে-মুছে ফেলা কষ্টকর হয়ে ওঠে, তখন তা আমাদের সামনে একটা প্রতীকস্বরূপ জ্বলজ্বলে ঘটনা হয়ে দাঁড়ায়। এ গ্রন্থসূত্রেই আমরা জানতে পারি, জেনারেল এরশাদ শহীদ নূর হোসেনের পরিবারকে ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু তাঁর পিতা মজিবুর রহমান একবার এরশাদকে স্বৈরাচারী বলে অভিহিত করলে সেই ভাতা দেওয়া তিনি বন্ধ করে দেন। মতিউর রহমানের পর্যবেক্ষণগত দৃষ্টি খুবই প্রখর। এবং এই প্রাখর্যের প্রমাণ আমরা পাই যখন তিনি নূর হোসেনের আত্মদানকে সামনে রেখে উচ্চারণ করেন, ‘এভাবেই মেহনতি মানুষের সংগ্রাম আর আত্মত্যাগ গভীরভাবে আলোড়িত ও অনুপ্রাণিত করছে শামসুর রাহমানের মতো আরও অনেক প্রবীণ-নবীন কবি আর চিত্রশিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, নাট্য ও কণ্ঠশিল্পী এবং নানা পেশার মানুষকে। এসব ছোট-বড় সব স্রোতোধারা মিলেমিশে এক উত্তাল তরঙ্গমালা সৃষ্টির আয়োজন চলেছে বাংলাদেশে, প্রকাশ্যে এবং অলক্ষ্যে।’<br /> আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতে, এ বই যেন তিনজনের সৃজন-ফসল। এ বইয়ের প্রতিটি ধাপে কাইয়ুম চৌধুরীর উজ্জ্বল উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তাঁর ছোট্ট উপক্রমণিকা ‘আমাদের গর্ব’ যেমন প্রাসঙ্গিক, তেমনি প্রতিটি প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও কবিতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ তাঁর চিত্রশৈলী এই গ্রন্থকে সার্বিকভাবে এনে দিয়েছে নতুনতর মাত্রা। খুবই সময়োচিত নবতর আঙ্গিকে এ বইয়ের প্রকাশনা। সামাজিক ইতিহাসপ্রেমী পাঠকদের সংগ্রহ উজ্জ্বল করবে এ বই।