তিন পয়সার জ্যোছনা



BDT337.50
BDT450.00
Save 25%

এই বিবরণকথায় আমি আমার ব্যক্তিগত গল্পটাই বলবার চেষ্টা করেছি—ব্যক্তিই শেষ পর্যন্ত ধারণ করে দিনের আলো অথবা মেঘ অথবা দুই-ই। সদ্য-কৈশোর পেরোনো কোমল আমাদের কাঁধে ইতিহাস কতটাই না দায়ভার চাপিয়ে দিয়েছিল ওই পঞ্চাশের দশকে। আমার লিখন, আমার বেড়ে ওঠা, আমার জীবনসঙ্গীর চরণপাত, আমার সেই পুরান ঢাকা—আমার তরফে এ গল্প আমি বলে গিয়েছি স্মৃতিকথনের দ্রুততালে, যতিচিহ্নে মানিনি প্রথাগত রীতি, নিঃশ্বাস পতনেরও অবকাশ রাখিনি বহু ক্ষেত্রে—এভাবেই এই আমি আর আমার সেই পঞ্চাশের দশক।

 

সৈয়দ শামসুল হক 

Quantity


  • Security policy (edit with Customer reassurance module) Security policy (edit with Customer reassurance module)
  • Delivery policy (edit with Customer reassurance module) Delivery policy (edit with Customer reassurance module)
  • Return policy (edit with Customer reassurance module) Return policy (edit with Customer reassurance module)

১৯৫০-এর দশকে দেশে একদিকে চলছে ভাষার লড়াই, অন্যদিকে ভাষার সাধনা। পাকিস্তানের জন্মের পর দ্রুতই নতুন এক অনুভূতি ও স্বপ্নের কথা বলতে শুরু করেছেন সাহিত্যিকেরা। সবকিছু পাল্টে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষায় দারুণ দাপটে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছেন হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান, আল মাহমুদ, আলাউদ্দিন আল আজাদ, সাইয়িদ আতীকুল্লাহ, কাইয়ুম চৌধুরী, মুর্তজা বশীরের মতো তরুণেরা।

সৈয়দ শামসুল হকের যৌবনকালের স্মৃতিতে ধরা পড়েছে আমাদের সংস্কৃতির স্বর্ণযুগের এক অসামান্য ছবি। 

Reviews

কল্লোলিত কালের কড়চা

| 25/11/2019

বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকের সূচনালগ্ন থেকেই একদল যুবা ও তরুণ সাহিত্যিক, চিত্রী ও সংস্কৃতিকর্মীর আবির্ভাব, যাঁদের সৃজনশীল তৎপরতায় পাকিস্তানের চরম বাংলা ও বাঙালি-বৈরী পরিবেশে সম্ভারিত হয়ে উঠতে থাকে এক নতুন সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ধারা। তিন পয়সার জ্যোছনা পূর্ণাঙ্গ নয়, খণ্ডিত এক আত্মজীবনী। এ গ্রন্থের প্রতিটি অধ্যায়ের ভেতর দিয়ে সৈয়দ শামসুল হক মূর্তিমান হয়ে উঠছেন উল্লিখিত ওই এক দশক সময়পরিসরেই। ভূমিকায় জানাচ্ছেন, ‘সাংস্কৃতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক ইতিহাস বা এ সকলের বিচার-বিশ্লেষণ নয়—কাজটা ভবিষ্যৎ কারও জন্যে না হয় পড়ে থাক—আমি আমার ব্যক্তিগত গল্পটাই এখানে বলবার চেষ্টা করেছি—ব্যক্তিই শেষ পর্যন্ত ধারণ করে দিনের আলো অথবা মেঘ অথবা দুই-ই।’ ওই পঞ্চাশের দশকেই ঢাকায় শিকড় গেড়ে বসা সদ্য যুবা সৈয়দ হকের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে কবি আল মাহমুদ, শহীদ কাদরী, সাইয়িদ আতীকুল্লাহ, আবদুল গাফফার চৌধুরী, শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, খালেদ চৌধুরী, ফজলে লোহানী, আনিস চৌধুরী, আনিসুজ্জামান, মুস্তাফা নুরউল ইসলাম, সৈয়দ মোহাম্মদ পারভেজ, আবদুল গনি হাজারী, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, আবদুল্লাহ আলমুতী শরফুদ্দিন ও আতোয়ার রহমানের, চিত্রশিল্পীদের মধ্যে পরিচয় হচ্ছে জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, হামিদুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, কাইয়ুম চৌধুরী, দেবদাস চক্রবর্তী, রশিদ চৌধুরী ও মুর্তজা বশীরের সঙ্গে। পঞ্চাশের দশকের এঁরাই গড়ে দিয়েছেন আমাদের আধুনিক কবিতা, কথাসাহিত্য, চিত্রকলা ও সংস্কৃতির ভিত্তিমূল, যার থেকে প্রবাহিত ধারাটি আজও বহমান। বইটিতে সৈয়দ হক বলেছেন তাঁর অগ্রজ কবি ও সৃজনকুশলীদের কথাও। যাঁকে যতটুকু শ্রদ্ধা দেখানো প্রয়োজন, তাঁকে করেছেন ঠিক ততটুকুই। অকপটে বলেছেন তাঁদের স্খলনের কথাও। পুরোনো ঢাকায় গলিঘুঁজির কথা যেমন সৈয়দ হকের রূপরসগন্ধসমেত উঠে এসেছে লেখায়, সমভাবে এসেছে পঞ্চাশের দশকের ঢাকার নাগরিক জীবনের রূপটিও। বলেছেন বিখ্যাত ‘বিউটি বোর্ডিং’ ও সওগাত-এর সাহিত্যিক আড্ডার কথা। পড়তে পড়তে মনে হয়, আমরাও যেন চলে গেছি পঞ্চাশের দশকের ওই সব আড্ডার টেবিলে। বিচিত্র দিকে প্রক্ষিপ্ত সৈয়দ হকের জীবন, তবে শেষ পর্যন্ত স্থিত, মূলত সাহিত্যের ক্রোড়েই। চলচ্চিত্র নির্মাণের টানে তিনি বোম্বাই (এখনকার মুম্বাই) গিয়েছিলেন সেই পঞ্চাশের দশকেই। ফিরে এসেছিলেন ভাষা আন্দোলনের বছরের শেষাশেষি। এবং আমরা দেখব, এই গ্রন্থেরই সূত্রে, আমাদের চলচ্চিত্রের শুরুর দশার অন্যতম যাজ্ঞিক তিনি। বইটি খণ্ডিত আত্মজীবনী হলেও আমাদের জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের দলিলবিশেষ। বিশ্লেষণের প্রয়াসে তিনি নামেননি কিন্তু ভবিষ্যৎ-গবেষকদের তাঁর গ্রন্থে বর্ণিত ঘটনাবলি বিশ্লেষণের অবারিত সুযোগ করে দিয়েছেন। এই বই আমাদের সামাজিক-ইতিহাসের কালানুক্রমিকতায় একটি নতুন সংযোজনস্বরূপ তথ্যের সাহিত্যিক আধারবিশেষ।