ভালোবাসার তারুণ্য



BDT195.00
BDT260.00
Save 25%

তারুণ্য মানে নতুন সৃষ্টি। সৃষ্টিশীল ভালোবাসায় ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেওয়া। যতই বাধা থাক পথে, ‘এ বয়স তবু নতুন কিছু তো করে’। দেশে দেশে, সময়ের বাঁকে বাঁকে বহু তরুণের অবদানে পাল্টে গেছে যুগ, এগিয়েছে সভ্যতা, দিগন্ত বেড়েছে কল্পনার। এঁদের অনেকের জীবনও ছিল স্বল্পায়ু। অম্লান আলো জ্বালানো এই চিরতরুণদের নিয়ে এই বই। 

Quantity


  • Security policy (edit with Customer reassurance module) Security policy (edit with Customer reassurance module)
  • Delivery policy (edit with Customer reassurance module) Delivery policy (edit with Customer reassurance module)
  • Return policy (edit with Customer reassurance module) Return policy (edit with Customer reassurance module)

যাঁ রা  লি খে ছে ন:

সাগুফতা শারমীন তানিয়া

জাভেদ হুসেন

মৃত্তিকা সহিতা

উম্মে ফারহানা

ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী

জি এইচ হাবীব

আমিমুল এহসান

মুনির হাসান

আহমাদ মোস্তফা কামাল

বিনয় বর্মন

শিকোয়া নাজনীন

কুদরত-ই-হুদা

ফারুক ওয়াসিফ

শান্তনু মজুমদার

তানিম হুমায়ুন

দ্বিতীয় সৈয়দ-হক

সুমন রহমান

সিমু নাসের

মিজান মল্লিক 

Reviews

হার না-মানা তারুণ্যের জয়গাথা

| 12/11/2019

যেকোনো দেশের—সে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেরই হোক না কেন—তার সামনে থাকা চাই কাজে ও কর্মে সুদৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কিছু মানুষের জীবন-কাহিনি, যা ওই দেশটির সমাজ ও মানুষের চরিত্র গঠনে পালন করতে পারে নীরব যাজ্ঞিকের ভূমিকা। আমাদের সমাজ থেকে যখন এ জাতীয় দৃষ্টান্ত বিরল হতে বসেছে, তখন সাজ্জাদ শরিফের সম্পাদনায় ভালোবাসার তারুণ্য: পৃথিবী পাল্টে দেওয়া তরুণেরা শিরোনামের বইয়ের প্রকাশ সত্যিই একটা ঘটনা হয়ে উঠেছে। মূলত সেটি হয়ে উঠেছে বইয়ের উদ্দেশ্যের কারণে। বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীকে প্রভাবিত করেছেন, বিশ্বের এমন ১৯ তরুণকে বাছাই করা হয়েছে এ গ্রন্থে। প্রতিটি চরিত্রই দৃষ্টান্তস্থানীয়। স্বসমাজের সীমানা পেরিয়ে বিশ্ববাসীর কাছেও তাঁরা নিজের কর্মকীর্তির জন্য ‘রোল মডেল’ হয়ে উঠেছেন। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার, এ বইয়ের বেছে নেওয়া ব্যক্তিত্ববৃন্দের কারও বয়স ৪০ বছরের ওপরে নয়। একমাত্র ব্যতিক্রম উইলিয়াম লরেন্স ব্র্যাগ (১৮৯০-১৯৭১)। তিনি বেঁচে ছিলেন ৮১ বছর। কিন্তু হলে কী হবে, তাঁর তরুণ বয়সের পরিধিতে তিনি কী করেছেন, কোথায় কৃতিত্ব তাঁর, তাই তুলে ধরা হয়েছে ‘উইলিয়াম লরেন্স ব্র্যাগ: বিজ্ঞানে কনিষ্ঠতম নোবেলজয়ী’ নিবন্ধে। তাঁর সম্পর্কে বলতে গিয়ে লেখক আহমাদ মোস্তফা কামাল আমাদের জানাচ্ছেন, ‘বিস্ময়ের সেখানেই শেষ নয়, তারপরের বছর মানে ২৩ বছর বয়সে তিনি আবিষ্কার করলেন এমন একটি সূত্র, যা তাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে রইল তাঁর মৃত্যুর পরও, এখনো। সেখানেই শেষ হলো না। মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯১৫ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার জয় করলেন তিনি।’ তাঁর পিতার সঙ্গে যৌথভাবে। লেখক এরপর জানাচ্ছেন আমাদের তাঁর আবিষ্কারের কাহিনি। তারপর বলছেন, ‘২০১৪ সালে মালালা ইউসুফজাই শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয় করার আগ পর্যন্ত প্রায় ১০০ বছর ধরে লরেন্স ব্রাগই ছিলেন সর্বকনিষ্ঠ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।’ বইয়ের শুরুতেই আমরা পড়ি ফ্রান্সের বীরকন্যা জোন অব আর্কের জীবনকথা। কীভাবে তিনি হয়ে উঠলেন ইংরেজ অধিকৃত ফরাসি-ভূমির মুক্তির দূত, কী নিষ্ঠুরভাবে আত্মাহুতি দিলেন, শেষত প্রায় ৫০০ বছর পর সন্তের ও ফ্রান্সের জাতীয় বীরের মর্যাদায় তাঁর বিভূষিত হওয়ার ঘটনার পাঠ প্রবলভাবে প্রাণিত করবে পাঠককে। জীবিত তরুণ ব্যক্তিত্বের জীবনকথাও তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। এঁদের একজন ফেসবুকের জনক মার্ক জাকারবার্গ (১৯৮৪) এবং অন্যজন মালালা ইউসুফজাই (১৯৯৭), সবচেয়ে কম বয়সী নোবেল বিজয়ী (১০১৪)। সিমু নাসের জাকারবার্গের উত্থানের ইতিহাস খুবই সুচারুভাবে তুলে ধরে বলেন, ‘আমেরিকার কনিষ্ঠতম প্রেসিডেন্ট হওয়ার রেকর্ড তৈরি করেছিলেন থিওডোর রুজভেল্ট, ৪২ বছর বয়সে। ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনে মার্কের বয়স হবে ৪০ বছর। মাত্র দুই বছর কম রুজভেল্ট থেকে। কাজেই বয়সের দিক থেকে মার্কের প্রেসিডেন্ট হওয়া কোনো সমস্যা নয়।’ আসলে জাকারবার্গের জনপ্রিয়তার কথা ভেবেই এ কথা বলা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তো বটেই, বিশ্ববাসীও তাঁকে এক ডাকে চেনে। মালালা ইউসুফজাইয়ের কথা যখন পড়ি, গর্বে ভরে ওঠে বুক। সেটি এ কারণে যে নিশ্চিত মৃত্যুর কবল থেকে বেঁচে উঠে তিনি আত্মসমর্পণ করেননি সেই অশুভ শক্তির কাছে। মালালার বয়স এখন মাত্র ২০ বছর। অথচ কী উদ্যম তাঁর শিক্ষা ও সমাজসেবামূলক কাজে! একইভাবে আমরা যখন বিজ্ঞানী ব্লেইজ প্যাসকাল, সুর ও সংগীতস্রষ্টা ভল্‌ফ্‌গাং আমাদিউস মোৎসার্ট, কবি জন কিটস, বিজ্ঞানী এভারিস্ত গালোয়া, ফরাসি কবি ও চিত্রী যথাক্রমে জাঁ আর্তুর র‍্যাবো ও তুলুস লোত্রেক, বিশ্বখ্যাত ভারতীয় গণিতবিদ শ্রীনিবাস রামানুজন, স্পেনের কবি ও নাট্যকার ফেদেরিকো গারসিয়া লোরকা, আনা ফ্রাঙ্ক, কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য, বিপ্লবী চে গুয়েভারা, প্যাট্রিস লুমুম্বা, মার্টিন লুথার কিং, জন লেনন ও বব মারলে—এ বইয়ের অন্তর্ভূত তাঁদের জীবনীগুলো পাঠ করি, মন তখন উদ্বেল হয়ে ওঠে। তাঁদের কর্মযজ্ঞগত একান্ত সাধনা ও আত্মত্যাগের বিবরণ গেঁথে যায় মনের গভীরে। যে ১৯ জন প্রাবন্ধিক এ বইয়ের প্রবন্ধগুলো লিখেছেন তাঁদের আলোচিত ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে, তাঁদের জীবন, কর্ম, সাধনা ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে, সেগুলো তাঁরা সুচিন্তিতভাবে লিখেছেন। তাঁদের গদ্যশৈলীও মনকাড়া। খুবই যত্নে প্রকাশিত এ বই। সুসম্পাদিতও। সাজ্জাদ শরিফকে আন্তরিক অভিনন্দন, এ রকম একটি বইয়ের পরিকল্পনা ও সম্পাদনার জন্য।