সবুজ দূর্গ



BDT160.00
BDT200.00
Save 20%

এক অজানা রোগে মারা যাচ্ছে রবিন।

মারাত্মক অভিশাপের শিকার হয়েছে সে।

আজব এক জাদুর দেশে চলে যেতে পারলে তবেই হয়তো

তাকে বাঁচানোর উপায় করা যায়।

ডেথ সিটিতে সবই সম্ভব। 

রবিনকে নিয়ে রওনা হলো কিশোর আর রোডা।

চলে গেল সবুজ রাজ্যে।

তাজ্জব হয়ে গেল সেখানে নিজেদের নকল দেখে—

দুজন কিশোর, দুজন রোডা, দুজন রবিন;

এবং রবিনদের একজনকে মরতেই হবে... 

Quantity


  • Security policy (edit with Customer reassurance module) Security policy (edit with Customer reassurance module)
  • Delivery policy (edit with Customer reassurance module) Delivery policy (edit with Customer reassurance module)
  • Return policy (edit with Customer reassurance module) Return policy (edit with Customer reassurance module)

আবার সেই ডেথ সিটির গল্প। এখানে কল্পনাকে হার মানানো কত কিছুই না ঘটে! এবার ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রবিন। হঠাৎ করেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আক্রান্ত হয় ভয়ানক জ্বরে। নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে সে। কিন্তু রবিনের এই অসুস্থতার নেপথ্যে যে রয়েছে এক ডাইনির অভিশাপ আর নানা আধিভৌতিক কর্মকাণ্ড—এসব উন্মোচিত হতে থাকে ধীরে ধীরে। রবিনের গোয়েন্দা বন্ধুরা তাকে ভালো করার জন্য ডেথ সিটি ছেড়ে অন্য ডিমেনশনে যায়। আশ্রয় নেয় মায়াপথেরও। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রবিন কি অভিশাপমুক্ত হয়ে তার আগের জীবনে ফিরে আসতে পারবে? পারলে তা কীভাবে? প্রশ্নগুলোর উত্তর রকিব হাসানের এই উপন্যাসের শ্বাসরুদ্ধকর কাহিনিতে। 

Reviews

রহস্য-রোমাঞ্চের গহিনে

| 12/11/2019

রকিব হাসানের সবুজ দুর্গ বইয়ের শুরুটা ডেথ সিটিকে ঘিরে। যেখানে ঘটে চলে এমন সব ঘটনা, অবিশ্বাস্য মনে হলেও সেখানকার সবকিছু বাস্তবের মতোই। ‘গোয়েন্দা কিশোর মুসা রবিন সিরিজের’ এ বই এমন এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত, যার শুরুটা এ রকম—‘রবিন যে অসুস্থ হয়েছে, শুরুতে দলের কাউকে বলল না সেটা। নীরবে কষ্ট পাওয়াই ওর স্বভাব। নিজের অনুভূতির কথা, নিজের কষ্ট-বেদনার কথা—সেটা মানসিক হোক কিংবা দৈহিক—মরে গেলেও কাউকে বলতে চায় না।’ রবিনের অসুস্থতা এবং তার সেই অসুস্থতার উৎস কোথায়, তার অনুসন্ধান, কিংবা সমাধানই এই উপন্যাসের উপজীব্য। বইয়ের শুরুতে আমরা দেখি রোডা, কারিনা, রবিন, কিশোর ও মুসা একটা কফি শপে খেতে বসেছে। সেখানে বসেই সবাই জানতে পারে রবিনের অসুস্থতার নেপথ্যের রহস্য। জানতে পারে দ্য গ্রিন কিংডম নামের একটা বই কিনতে গিয়ে গোলমালের সূত্রপাত। যে দোকান থেকে রবিন বইটা কেনে, সেটা আবার তার মালিকের কাছে বিক্রি করতে গিয়েই তার পরিচয় হয় রহস্যময় এক লোকের সঙ্গে, যে তাকে একটা কফি শপে নিয়ে গিয়ে বসে। জিজ্ঞেস করে বইটা রবিনের পছন্দ হয়েছে কি না। আলাপের এক ফাঁকে লোকটা, রবিনের ভাষায়, ‘আচমকা হাত বাড়িয়ে আমার দুই ভুরুর মাঝখানে একটা সবুজ পাথর রাখল।’ তারপর থেকেই তার অসুস্থতার শুরু। বলতে লাগল রবিন, ‘আমার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। মনে হলো বেহুঁশ হয়ে যাব।’ ওই অবস্থায় দেখল লোকটা তাড়াহুড়ো করে কফি শপ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। কষ্ট হলেও, রবিন লোকটার পিছু নিল। এসে পৌঁছাল সেই গোরস্থানে, যেখানে রয়েছে ক্যাটেরিনা মুনের কবর। ওটার দিকেই এগোতে লাগল লোকটা। এখানেই রয়েছে সিক্রেট পাথ বা মায়াপথ। লেখকের ভাষায়, ‘এই সিক্রেট পাথ বা মায়াপথটাকে সবাই চেনে ওরা। ডেথ সিটির গোড়াপত্তনকারীদের মধ্যে ক্যাটারিনা মুনের ভূমিকা ছিল প্রধান। রহস্যময় কোনো কারণে তার কবরটাতে রয়েছে ম্যাজিক্যাল পাওয়ার। অলৌকিক শক্তি। কবর ফলকটাকে ব্যবহার করে ডিমেনশন কিংবা ভিন্ন সময়ে চলে যাওয়া যায়।’ এই পথকে অবলম্বন করেই লোকটা অদৃশ্য হয়ে যায় চোখের পলকে। কিন্তু রবিন ভালো হবে কী করে? সেই পথের তালাশ করতে গিয়ে পাঁচ বন্ধু যে সিদ্ধান্তে এল, তাতে বুদ্ধির চমক আছে। কারিনা আর মুসা থেকে গেল ডেথ সিটিতে এই ভাবনা থেকে যে ‘বইটা পেলে, আর তাতে রবিনকে সুস্থ করার কোনো ফর্মুলা পাওয়া গেলে, আমরাও তোমাদের পেছন পেছন আসব।’ আর কিশোর, রবিন এবং রোডা তিনজনে হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে সুর করে তিনবার ক্যাটারিনা মুনের নাম উচ্চারণ করতে করতে কবর ফলকটার দিকে পিছু হটে গেল। সবুজ আলোর একটা ঝিলিক দেখতে পেল মুসা আর কারিনা। আর তার পরেই উধাও হয়ে গেল তার বন্ধুরা। তারপর কী হলো? ‘মায়াপথের অন্য পাশে পৌঁছে গেল ওরা। এক মায়াময় সবুজ আলোর দেশে।’ এখানকার ‘সবকিছুই সবুজ হওয়ার কারণ আকাশের সূর্যটাও সবুজ।’ নতুন যে ডিমেনশনে ওরা তিনজন আসে, সেখানে সবুজের সমাহারের পাশাপাশি সাক্ষাৎ পেল আরেকজন রোডা ও আরেকজন কিশোরের। আরেকজন রবিনও আছে। কিন্তু সে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নয়। এ রকম ঘটনার মুখে দেখা হলো ওদের সঙ্গে অল্প বয়সী এক তরুণীর—ব্রুলা। ব্রুলা সবকিছু শোনে। তবে সব দ্বিধা কাটিয়ে বলে, ‘আমি তোমাদের সাহায্য করব।’ তারপর ডাকিট নামে এক প্রাণীর পিঠে সওয়ার হয়ে ওরা চলল সবুজ দুর্গের দিকে। ওদিকে ডেথ সিটিতে মুসা আর কারিনা যে অভিযানে অংশ নেয় উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে, বিশেষ করে রহস্যময় দ্য গ্রিন কিংডম বইটার উদ্ধারে, তা রীতিমতো রোমাঞ্চকর। এ বইয়ের শেষে ব্রুলা যেভাবে সমস্যার সমাধানে সাহায্য করে, সবুজ দুর্গের ডাইনির কল্যাণে যেভাবে রবিন অভিশাপমুক্ত হয়ে নতুন জীবন লাভ করে, তার পাঠ শেষে মন ঝলমল করে ওঠে। রকিব হাসানকে ধন্যবাদ এমন চমকপ্রদ বই উপহার দেওয়ার জন্য।