দুর্ভাবনা ও ভাবনা : রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে

লেখক: আকবর আলি খান

বিষয়: প্রবন্ধ, গবেষণা ও অন্যান্য

৫৬০.০০ টাকা ২০% ছাড় ৭০০.০০ টাকা

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিভাই আসলে সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে নন। ব্যক্তির সীমাবদ্ধতা অনেক ক্ষেত্রে তাঁর কালের এবং যে সমাজে ও শ্রেণিতে তিনি বাস করেছেন তার সীমাবদ্ধতা। রবীন্দ্রনাথও এই নিয়মের ব্যতিক্রম নন। রবীন্দ্রপ্রতিভার অবমূল্যায়ন ও অতিমূল্যায়ন—এই দুই ধারার বিপরীতে বাঙালি সংস্কৃতির এই সেরা প্রতিভার একটি যথার্থ তথ্যনিষ্ঠ মূল্যায়ন করেছেন লেখক এ বইয়ে।   

পছন্দের তালিকায় রাখুন

বইয়ের বিবরণ

রবীন্দ্রপ্রতিভার মূল্যায়ন নিয়ে নানা রকম মতবিরোধ আছে। একদল বাঙালি মনে করেন রবীন্দ্রনাথ বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি। এই মতের প্রতিপক্ষ দল মনে করেন রবীন্দ্রনাথকে অতিমূল্যায়ন করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে যেসব ধারণা বা অপধারণা প্রচলিত আছে, এই বইয়ে সেগুলো যাচাই ও সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায়, রবীন্দ্রনাথকে যেসব প্রশ্নে হেয় করার চেষ্টা করা হয়েছে, সেসব প্রশ্নের বেশির ভাগই অসার। অন্যদিকে যেসব প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথকে অতি উচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, সেসব প্রশ্নে রবীন্দ্রনাথের যেসব দুর্বলতা ছিল, সেগুলো চাপা দেওয়া হয়েছে। সামগ্রিক বিশ্লেষণে রবীন্দ্রনাথ একজন পরিপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন না, পরিপূর্ণ ব্যক্তি কেউই হন না। সবাই দোষে-গুণে মানুষ, রবীন্দ্রনাথও এর ব্যতিক্রম নন। এই বইয়ে রবীন্দ্রনাথ সম্বন্ধে সাতটি ভুল ধারণা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, অন্যদিকে ছয়টি প্রবন্ধে দেখানো হয়েছে যে রবীন্দ্রনাথের শুভানুধ্যায়ীরা রবীন্দ্রনাথের অবদানকে অতিরঞ্জন করেছেন। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে মুসলমানদের যেসব দুর্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো সম্পর্কেও চারটি অধ্যায় রয়েছে এই বইয়ে। রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে নতুন আলোকপাত পাঠককে আলোড়িত করবে। 

আলোর উৎস কিংবা ডিভাইসের কারণে বইয়ের প্রকৃত রং কিংবা পরিধি ভিন্ন হতে পারে।

আকবর আলি খান

জন্ম ১৯৪৪ সালে। ইতিহাসে অনার্স ও এমএ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ও পিএইচডি। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন: পাকিস্তানি জান্তা তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থসচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ছিলেন, উপদেষ্টা ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের। বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। অর্থনীতি বিষয়ে তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় গ্রন্থ পরার্থপরতার অর্থনীতি এবং আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি। তাঁর Discovery of Bangladesh I Some Aspects of Peasant Behavior in Bengal বই দুটি দেশে-বিদেশে প্রশংসিত। তাঁর আরও দুটি উল্লেখযোগ্য বই Gresham’s Law Syndrome and Beyond I Friendly Fires, Humpty Dumpty Disorder and Other Essays। জীবনানন্দ বিষয়ে লিখেছেন চাবিকাঠির খোঁজে। তাঁর বাংলা রচনা সম্পর্কে কলকাতার দেশ পত্রিকার মন্তব্য, ‘এই লেখক লিখতে জানেন।’

এই লেখকের আরও বই
এই বিষয়ে আরও বই
আলোচনা ও রেটিং
৪(১)
  • (০)
  • (১)
  • (০)
  • (০)
  • (০)
আলোচনা/মন্তব্য লিখুন :

আলোচনা/মন্তব্যের জন্য লগ ইন করুন

Shotabdi Bhattacharjee

০৪ Feb, ২০২৩ - ১১:২৭ AM

রবীন্দ্রসাহিত্যের ব্যাপকতা নিয়ে আমাদের সকলেরই কমবেশি জানা। তাঁর সম্পূর্ণ সাহিত্য আমার এখনো পড়া সম্ভব হয়নি, তবে কিছু কিছু পড়ে তাঁর চিন্তা-ভাবনাগুলো বোঝার চেষ্টা করি। একই সাথে তাঁকে নিয়ে বিদগ্ধজনদের মূল্যায়ন টুকটাক জানতে চেষ্টা করি। কোন একটা বিষয়কে ত্রুটিহীনভাবে মেনে নেয়া এক ধরনের মৌলবাদিতা, যা রবীন্দ্রানুরাগীদের মাঝে প্রায়ই দেখা যায়। তাঁদের অনেকেই রবীন্দ্রনাথকে বসিয়েছেন প্রায় দেবতার আসনে, তাঁর কোন ত্রুটিই মানতে চান না। আবার কেউ কেউ রবীন্দ্রনাথকে এতটাই অবমূল্যায়ন করেন যে তাঁর অসংখ্য অবদানকেও এক লহমায় অস্বীকার করে বসেন। আসলে দু ধরনের ভাবনাই ভুল। রবীন্দ্রনাথ দেবতা ছিলেন না, ছিলেন একজন মানুষ। হ্যাঁ, সাধারণ মানুষ অবশ্যই নন। তাই তাঁর ভুল-ত্রুটির পরিমাণ কম থাকলেও আছে তো অবশ্যই। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে তাই নানা ধরনের ঠিক-ভুল ভাবনা এবং তার যৌক্তিকতা-অযৌক্তিকতা নিয়ে স্বনামধন্য আকবর আলি খানের এই প্রয়াস। মোট পনেরোটি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে বইটিকে। প্রথম এবং শেষ অধ্যায়কে বলা যায় গোটা বইটার সারসংক্ষেপ। বাকি ১৩টা অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ এবং তাঁকে নিয়ে নানান গুজব এবং ধোঁয়াশাগুলো। রবীন্দ্রনাথ পৌত্তলিক ছিলেন কিনা, মুসলিম বিদ্বেষী ছিলেন নাকি অসাম্প্রদায়িক ছিলেন, নারীদের কীভাবে মূল্যায়ন করতেন তিনি, জাতীয়তাবাদ নিয়ে তাঁর কেমন ভাবনা ছিল, কৃষি এবং শিক্ষা নিয়ে তাঁর কাজ এবং রবীন্দ্রসাহিত্য এবং তাঁর দর্শনের বর্তমান সমাজে প্রাসঙ্গিকতা, সবকিছুই বেশ সাবলীলভাবে উঠে এসেছে এই বইয়ে। আকবর আলি খান প্রচুর গবেষণা, তথ্য এবং তাঁর নিজস্ব ভাবনা দিয়ে সাজিয়েছেন বইটি। অসম্ভব তীক্ষ্ণ যুক্তিজাল এবং তথ্য-উপাত্তের সাহায্যে তিনি প্রমাণ করেছেন নানান গুজবের অসারতা। ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ ও সীমিত পরিসরে আলোচিত হয়েছেন। সমৃদ্ধ এই বইটি রবীন্দ্রনাথের কাজকে বুঝতে বেশ সহায়তা করেছে। আরো করবে, যখন আমি বাকি রবীন্দ্রসাহিত্য পড়ে শেষ করব। বইটি আবার তখন পড়তে হবে নিজস্ব চিন্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা দেখার জন্য। আকবর আলি খানকে নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। ইতিহাস, অর্থনীতিতে তাঁর ডিগ্রী কিন্তু লেখনশৈলী এত চমৎকার যে মনেই হয় না তিনি সাহিত্যের ছাত্র নন। মুক্তিযোদ্ধা এই লেখক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পেশায় দায়িত্ব পালন করেছেন। অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে বইটি লিখে তিনি বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যকে করেছেন সমৃদ্ধ এবং জ্ঞানের জগতে যোগ করেছেন একটি নতুন পালক। #প্রথমাডটকম_কথাপ্রকাশ_বই_রিভিউ_প্রতিযোগিতা