৫১০.০০ টাকা ২৫% ছাড় ৬৮০.০০ টাকা

পুরানো সেই দিনের কথা একজন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের জীবনের উন্মেষ ও বিকাশের কাহিনি। নবীনগরের জলাভূমিতে লালিত সাদাসিধে বালকটি ছিলেন কল্পনাবিলাসী ও অন্তমু‌র্খী। মুখচোরা বালকটি মাঠপর্যায়ের প্রশাসক হন। দায়িত্ব নেন আইনশৃঙ্খলা, ভূমি প্রশাসন, উন্নয়ন প্রশাসন, নির্বাচন, এমনকি চা-বাগানের মতো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার। এর মধ্যে দেখা দেয় মুক্তিযুদ্ধের টালমাটাল দিনগুলো। এই পরিস্থিতিতে লেখকের অভিজ্ঞতা সাধারণ পাঠকদের ভালো লাগবে এবং বর্তমান প্রশাসকদের কাজে লাগবে। 

সংগ্রহে আছে পছন্দের তালিকায় রাখুন

বইয়ের বিবরণ

পুরানো সেই দিনের কথা  আকবর আলি খানের আত্মজীবনী। এ আত্মজীবনী লিখতে গিয়ে লেখক তাঁর পূর্বপুরুষদের সম্পর্কে লিখেছেন আবার নবীনগরের প্রেক্ষাপট সম্পর্কেও লিখেছেন। ছোটবেলা থেকে লেখক ছিলেন বইপাগল। তবে নবীনগরে ভালো বই পাওয়া যেত না। ভালো বই পড়ার অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষা মিটত ঢাকায় এলে। তিনি হন তুখোড় পাঠক। এই পাঠকই একদিন পড়তে পড়তে এবং গবেষণা করতে করতে লেখকে পরিণত হন। অবশ্য কোনো বই-ই দীর্ঘদিন গবেষণা ছাড়া তিনি লেখেন না। তাঁর প্রথম বই বের হয় ৫২ বছর বয়সে। ব্যক্তিগত জীবনে লাজুক এই লোকটি জীবিকার জন্য যোগ দেন পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে। সিভিল সার্ভিসের বিচিত্র কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে মুখোমুখি করে নানা চ্যালেঞ্জের। এই অভিজ্ঞতার বিবরণ পাঠকদের কাছে পড়তে ভালো লাগবে। লেখক মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এই বইয়ের তিনটি অধ্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকারের ক্রিয়াকাণ্ড বর্ণনা করেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক অধ্যায়গুলোতে মুক্তিযুদ্ধের বস্ত্তনিষ্ঠ ইতিহাস বর্ণনা করা হয়েছে। 

আলোর উৎস কিংবা ডিভাইসের কারণে বইয়ের প্রকৃত রং কিংবা পরিধি ভিন্ন হতে পারে।

আকবর আলি খান

জন্ম ১৯৪৪ সালে। ইতিহাসে অনার্স ও এমএ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ও পিএইচডি। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন: পাকিস্তানি জান্তা তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। বাংলাদেশ সরকারের অর্থসচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক ছিলেন, উপদেষ্টা ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের। বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করছেন। অর্থনীতি বিষয়ে তাঁর দুটি পাঠকপ্রিয় গ্রন্থ পরার্থপরতার অর্থনীতি এবং আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি। তাঁর Discovery of Bangladesh I Some Aspects of Peasant Behavior in Bengal বই দুটি দেশে-বিদেশে প্রশংসিত। তাঁর আরও দুটি উল্লেখযোগ্য বই Gresham’s Law Syndrome and Beyond I Friendly Fires, Humpty Dumpty Disorder and Other Essays। জীবনানন্দ বিষয়ে লিখেছেন চাবিকাঠির খোঁজে। তাঁর বাংলা রচনা সম্পর্কে কলকাতার দেশ পত্রিকার মন্তব্য, ‘এই লেখক লিখতে জানেন।’

এই লেখকের আরও বই
এই বিষয়ে আরও বই
আলোচনা ও রেটিং
৪.৫(২)
  • (১)
  • (১)
  • (০)
  • (০)
  • (০)
আলোচনা/মন্তব্য লিখুন :

আলোচনা/মন্তব্যের জন্য লগ ইন করুন

Shotabdi Bhattacharjee

০৪ Feb, ২০২৩ - ১১:২৯ AM

আত্মজীবনী আমার পছন্দের জনরার একটি। আমি বই কিনতে গেলে আত্মজীবনী এবং ভ্রমণকাহিনীর দিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখি৷ আত্মজীবনী কেন ভালো লাগে এর উত্তর আমি নিজে নিজেই খোঁজার চেষ্টা করেছি। কী লাভ অন্য একজনের ব্যক্তিগত জীবন এবং তাঁর আদর্শ সম্পর্কিত কথাবার্তা পড়ে? কারো জীবনের সাথে তো কারোরটা মিলবে না। জীবনী পড়ার একটা বড় কারণ বিখ্যাতদের জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজে সফল হওয়ার চেষ্টা করা বা অনুপ্রেরণা নেওয়া৷ তবে আমার ক্ষেত্রে বড় কারণ, যাঁদের আত্মজীবনী আমরা পড়ি, তাঁরা অধিকাংশই মারা গেছেন বা অতি বৃদ্ধ বা আরো কয়েক প্রজন্ম আগের। এর ফলে গ্রামীণ দৃশ্য এবং জীবনের যে মনোরম ছবিটা তাঁদের ছেলেবেলা থেকে পাওয়া যায়, আমাকে প্রচণ্ড টানে সেই সময়টা। ওই মধুর অতীতটা আমাকে নিজের অতীতেও ফিরিয়ে নিয়ে যায়। এক ধরনের আয়না হিসেবে কাজ করে। একই সাথে ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকবদল সম্পর্কে এবং একজন রাষ্ট্রীয় বা ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কেও জানা যায় আত্মকাহিনী থেকে৷ এই কারণগুলো গুরুত্বপূর্ণ। একজন মানুষকে ব্যক্তিগতভাবে কেবল চেনা নয়, এর অন্যান্য কারণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আকবর আলি খানের অন্যান্য অর্থনীতি, সাহিত্য বিষয়ক বই পড়েই তাঁর লেখার মধ্যে একটা অন্য ধরনের সাবলীলতা খুঁজে পাই। তাঁর আত্মজীবনী বের হয়েছে, অথচ পড়ব না, এটা হতেই পারে না। তবে বইটি সম্পূর্ণ নয়। নানা কারণে অনেক কথাই সবসময় জীবিত অবস্থায় প্রকাশ করা যায় না, বিশেষত একজন রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির জন্য সেটা আরো কঠিন৷ তাই তাঁর বাকি জীবনকাহিনী প্রকাশিত হবে তাঁর মৃত্যুর পর। এই বইটিতে তাঁর শৈশবের নবীনগরে বেড়ে ওঠা, তাঁর পরিবার এবং বংশপরিচয় রয়েছে প্রথম ভাগে৷ ছাত্রজীবনের সব ক্ষেত্রেই মেধার স্বাক্ষর রেখে পরবর্তীতে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখযোগ্য সময় পার করেন তিনি৷ সেই সময়ের অভিজ্ঞতাই এই বইটার প্রাণ৷ একই সাথে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন নানান অভিজ্ঞতার কথা। রয়েছে বঙ্গবন্ধুর সাথে তিনটি স্মৃতিচারণের ঘটনা। লেখকের মতে, পৃথিবীর কোন মানুষই ১০০% সৎ না। ১০০% সৎ হয়ে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা সম্ভব না। সকলের মাঝেই কমবেশি মুনাফেকি রয়েছে। এছাড়াও আত্মজীবনীতে সম্পূর্ণ সত্যকথন সম্ভব না, এইটাও শুরুতেই কবুল করে নিয়েছেন তিনি৷ বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী বর্ষীয়ান এই মনিষীর জীবনের গল্প নানান কারণে একজন পাঠকের কাছে আকর্ষণীয়৷ একই সাথে সাহিত্যক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করার মতো। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম- কথাটা এই ক্ষেত্রে বলাটা সাজে না। তিনি আরো বেঁচে থেকে আমাদের আরো নানান মণিমুক্তা উপহার দিন, এই কামনাই বরং করি। (মৃত্যুর পূর্বে লিখিত) #প্রথমাডটকম_কথাপ্রকাশ_বই_রিভিউ_প্রতিযোগিতা

Kaosar Ahammad Ashik

২৯ Mar, ২০২২ - ৩:০২ PM

খুব সহজবোধ্য এবং তথ্যবহুল।