গাভী বিত্তান্ত

লেখক: আহমদ ছফা

বিষয়:

১৬০.০০ টাকা ২০% ছাড় ২০০.০০ টাকা

বইয়ের বিবরণ

আলোর উৎস কিংবা ডিভাইসের কারণে বইয়ের প্রকৃত রং কিংবা পরিধি ভিন্ন হতে পারে।

এই লেখকের আরও বই
এই বিষয়ে আরও বই
আলোচনা ও রেটিং
৪(১)
  • (০)
  • (১)
  • (০)
  • (০)
  • (০)
আলোচনা/মন্তব্য লিখুন :

আলোচনা/মন্তব্যের জন্য লগ ইন করুন

Ashraful Sharif

২৭ Feb, ২০২৩ - ২:০৪ PM

🔹বই : গাভী বিত্তান্ত 🔹লেখক: আহমদ ছফা 🔹ধরণ : সমকালীন উপন্যাস 🔸লেখক পরিচিতি: আহমদ ছফা ৷ জন্মেছেন চট্রগ্রামের চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া গ্রামে ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন ৷ তার লেখায় দারুণ সব সমাজ বাস্তবতা ফুটে উঠেছে ৷ তিনি ২৮ জুলাই ২০০১ সালে মৃত্যুবরণ করেন ৷ 🔸বই বিত্তান্ত: মরণ বিলাস বইয়ের মাধ্যমে আহমদ ছফার বইয়ের প্রেমে পড়ি ৷ তারপর থেকে একে একে শুরু হয় আহমদ ছফার সাহিত্যের প্রতি অনূরাগ ৷ সম্প্রতি পড়েছি "গাভী বিত্তান্ত" বইটি ৷ দারুণ এই বইটি শুরু হয়েছে শিক্ষক আবু জুনায়েদ সাহেবকে কেন্দ্র করে ৷ তিনি শিক্ষক হিসেবে গোবেচারা টাইপ ৷ তবে আমাদের দেশের ঐতিহ্যের প্রতীক বিশ্ববিদ্যালয়টির হঠাৎ করে উপচার্য বনে যায় গোবেচারা শিক্ষক আবু জুনায়েদ ৷ এই ঘটনায় আবেগী হয়ে হয়তো বলা যায়— এদেশে সব সম্ভব ৷ একজন সহজ সাধারণ মানুষ আবু জুনায়েদ ৷ বয়সের সাথে সাথে চেহারায় স্মার্ট বেড়েই চলছে ৷ অথচ তার স্ত্রী নুরুন্নাহার বানু সময়ের সাথে বয়সের চাপ বাড়ছে ৷ তলপেটে মেদ জমেছে ৷ মেয়ে মানুষ যখন কোন দিক দিয়ে নিজেদের আনস্মার্ট ভাবে তখন তার লাইফ পার্টনারকে সন্দেহ করতে শুরু করে ৷ তার কাছে মনে হতে থাকে— তার প্রিয় মানুষটা হয়তো তার এই খুঁতকে অপছন্দ করে অন্য মেয়ের প্রতি আসক্ত হয়ে উঠছে ৷ নুরুন্নাহার বানুও তেমন সন্দেহ প্রবণ ৷ রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ ৷ খুবই সাধারণ তার জীবন, তার চিন্তা ও স্বপ্ন। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি আর অতিরাজনীতির ঘেরাটোপে আবু জুনায়েদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বনে যান । এর পিছনে ভূমিকা রাখেন রসায়ন বিভাগের সুন্দরী শিক্ষিকা দিলরুবা খানম । উপাচার্যের পদে অধিষ্ঠিত হওয়াটাই আবু জুনায়েদের জীবন যাপন এবং দৃষ্টিভঙ্গীতে নিয়ে আসে অভাবনীয় পরিবর্তন। পারিবার, সামাজ এবং পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা নিরসন,বিশ্ববিদ্যালয়ে মিটিং মিছিল দুর্ঘটনা, নিজ দলীয় কর্মীদের মধ্যে অসন্তুষ্টি সামলে উঠতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন ক্ষমতা লাভের চেয়ে বরং তার সততা টিকিয়ে রাখাই কঠিন । তিনি র্নিভেজাল জীবনে আকৃষ্ট হন ৷ এক পর্যায়ে ভিসির বাংলোতে একটা গোয়ালঘর তুলে চাচা শ্বশুর ঠিকাদার তবারক আলী দেওয়া গাভী পালন শুরু করেন । আবু জুনায়েদ মনে হতে থাকে এই প্রাণীটিই তার জন্য মঙ্গলকর ৷ যার কোন চাওয়া-পাওয়া নেই, দাবী নেই,নেই কোন ষড়যন্ত্র । তখন থেকেই তার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠে গাভীটি। তার সমস্ত কার্যক্রমে গোয়ালঘর প্রধান হয়ে উঠে ৷ সন্দেহ প্রবণ জুনায়েদের স্ত্রী গাভীটাকে তার সতীনের মতো মনে করতে থাকেন । তিনি ষড়যন্ত্র করেন গাভীকে হত্যা করার। একদিন বিষ খাইয়ে গাভীকে হত্যা করা হলে জুনায়েদ সাহেব বাকরুদ্ধ হয়ে পরেন। এই গোয়ালঘরকে কেন্দ্র করে আহমদ ছফা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভেতরের নোংরা চিত্রটি তুলে ধরেছেন। তুলে ধরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতি, এবং অভ্যন্তরীন কোন্দল ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা ৷ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক অবস্থান আর জ্ঞানচর্চার মোড়কের আড়ালে ভেতরকার নোংরা চিত্র এর আগে অন্য বইয়ে লক্ষ্য করিনি কখন ৷ নিখুঁতভাবে এর আগে কেউ ফুটিয়ে তুলেন নি । উপন্যাসের চরিত্রগুলো প্রাণবন্ত ৷ উপন্যাসের ঘটনাবলি ও প্রেক্ষাপট পাঠকের কাছে প্রাসঙ্গিক ৷ আগামীতেও প্রাসঙ্গিক ভূমিকা রাখবে বলে মনে হয় ৷ 🔸ব্যক্তিগত রেটিং: রেটিংয়ের মাধ্যমে বইয়ের মান যাচাই করা যায় না ৷ বই সম্পর্কে জানতে হলে, বুঝতে হলে পড়তে হবে ৷ বইটিতে আমার ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৫/৫ #প্রথমাডটকম_কথাপ্রকাশ_বই_রিভিউ_প্রতিযোগিতা