জীবন বড় সুন্দর ব্রাদার

লেখক: নাজিম হিকমত

বিষয়: উপন্যাস

৩১২.০০ টাকা ২২% ছাড় ৪০০.০০ টাকা

তুরস্কের প্রথম আধুনিক ও ইউরোপীয় উপন্যাস। এর দিগন্ত শুধু তুরস্কের জাতীয় বিষয়-আশয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এই উপন্যাস অনুসন্ধান করেছে জীবনের এবং মৌলিক অধিকারের, আর এর নায়কেরা বসবাস করে অসাম্প্রদায়িক বিশ্বজনীন এক সমাজে। 

পছন্দের তালিকায় রাখুন

বইয়ের বিবরণ

১৯২৫ সাল। ইজমিরে এক পাথরের ঘরে কমিউনিস্ট বন্ধু ইসমাইলসহ আত্মগোপন করে আছে আহমেদ। রাস্তার এক পাগলা কুকুর কামড়াল ওকে। জলাতঙ্ক রোগের চিকিৎসা নেওয়ার কোনো উপায় নেই। শুরু হলো দিন গোনা, একচল্লিশ দিনে স্পষ্ট হতে শুরু করে জলাতঙ্কের লক্ষণ। ইসমাইলের হাতে নিজের পিস্তল তুলে দিল আহমেদ। জলাতঙ্কের লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠার পর যেন তাকে গুলি করে মেরে ওই ঘরেই মাটি চাপা দেওয়া হয়। 

দিন যায়। ঘোরের মধ্যে মাথার কাছে এসে দাঁড়ায় প্রেমিকা আনুশকা, যাকে কিছু না বলে নিরুদ্দেশ হয়ে গিয়েছিল আহমেদ। চীনা সহপাঠীকে টেক্কা দিয়েই এই নারীর মন জয় করেছিল সে। কিন্তু আনুশকা কি চীনা বন্ধুকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছিল? আনুশকা নিজের মুখে বলেছিল সি-ইয়া-উর সঙ্গেও শুয়েছে সে—নাকি তার ঈর্ষা উসকে দেওয়ার জন্যই হেঁয়ালি করেছিল আনুশকা?

অন্যদিকে ফিরে ফিরে আসছে বন্ধু ইসমাইলের বন্দিজীবনের স্মৃতি। ইসমাইলের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী স্বামী ফেরার দিন গোনে আর স্বগতোক্তির মতো বলে যায় স্বামীর আওড়ানো কথা—‘জীবন বড় সুন্দর, ব্রাদার।’

কবি নাজিম হিকমতের শেষ কাজ এই উপন্যাস। আত্মজৈবনিক এ উপন্যাসে তিনি আহমেদ আর ইসমাইলের জবানিতে হাজির হয়েছেন বারবার। নাজিমের অপূর্ব রচনাশৈলী এ উপন্যাসকে করে তুলেছে ক্ষুরধার আর নিখুঁত। এ বই তুরস্কের কমিউনিস্টবিরোধী নির্যাতন আর দুঃশাসনের এক নির্মম দলিলও।

 

আলোর উৎস কিংবা ডিভাইসের কারণে বইয়ের প্রকৃত রং কিংবা পরিধি ভিন্ন হতে পারে।

এই লেখকের আরও বই
এই বিষয়ে আরও বই
আলোচনা ও রেটিং
৪(১)
  • (০)
  • (১)
  • (০)
  • (০)
  • (০)
আলোচনা/মন্তব্য লিখুন :

আলোচনা/মন্তব্যের জন্য লগ ইন করুন

User

২৮ Feb, ২০২৩ - ১১:০১ PM

নাজিম হিকমত! মনে থাকবে তো নামটা? অন্তত যারা কবিতা ভালোবাসেন তারা এই নামটি যেন আর কখনো ভুলবেন না। একজন কবি একটি গোটা দেশের কবিতাকে পুরো এক শতাব্দী এগিয়ে নিয়ে গেছেন। দেশটি নাম তুরস্ক, কবির নাম নাজিম হিকমত। শুধুমাত্র কবিতা লেখার অভিযোগে, কবিতা ও লেখায় নিপীড়িত মানুষের কথা বলার অভিযোগে জীবনের অর্ধেকটা জুড়ে কাটিয়েছেন জেলে। প্রতিবার কবি জেলে গেছেন আবার ফিরে এসে কাজ করেছেন শোষণ আর শোষকের প্রতিবাদে। লেনিনিস্ট হিকমত সারাটা জীবন উৎসর্গ করে মানুষের জন্য। তাঁর লেখায় ফুটে উঠেছে ক্রোধ, অন্যায়ের প্রতিবাদে আক্রোশ। 'মানুষের মুন্ডুটা তো বোঁটার ফুল নয়, ইচ্ছে করলেই ছিঁড়ে নেবে।' কি সহজ অথচ দুঃসাহসী উচ্চারণ। কী অপরিসীম বিশ্বাস মানুষের প্রতি। ' তিনি আরও বলেছিলেন, "দুঃসময় থেকে সুসময়ে মানুষ পৌঁছে দেবে মানুষকে" সেই অমিত প্রতিভা আর সাহসী কবি ও লেখকের শেষ উপন্যাস জীবন বড় সুন্দর, ব্রাদার। গতানুগতিক ধারা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ধাঁচে লেখা হয়েছে উপন্যসটি। কখনো উত্তম পুরুষে আবার কখনো একই সাথে নামপুরুষে। উপন্যাসটির দুটি কেন্দ্রীয় চরিত্র আহমেদ এবং ইসমাইল। দুই চরিত্রই ব্যক্তিত্বে সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু দুটি চরিত্রেই যেন লেখক হিকমতের জীবনের প্রতিচ্ছবি। উপন্যাসটি শুরুতে একটি গোপন কমিউনিষ্ট কার্যক্রমে আহমেদ আসে ইসমাইলের কাছে। একসময় একটি কুকুর আহমেদকে কামড়ে দেয়। আহমেদের কি তাহলে জলাতঙ্ক হবে? জলাতঙ্কে একজন মানুষ পুরোপুরি উন্মাদ হতে ৪০ দিন সময় নেয়। আহমেদ দেয়ালে দাগ কেটে দিন গুনতে শুরু করে। মৃত্যুর আর জীবনের মাঝের ৪০ দিন। দিন যায়। এক দাগ, দুই দাগ, তিন দাগ... প্রতিদিন আহমেদ দাগ কাটে আর মস্কো ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালের স্মৃতিতে নিজেকে আর নিজের প্রেমিকাকে দেখতে পায়। আনুশকার। তুর্কি আহমেদ আর চীনা সি-ইয়া-উ একই সাথে প্রেমে পড়ে আনুশকার। আনুশকা কি সত্যি শুধু আহমেদকে ভালোবেসেছিল? জানা যায়নি। নারী হৃদয়ের তল পাবে পুরুষের সেই সামর্থ্য কোথায়? কিন্তু শুধু ইসমাইলকে ভালোবেসেছিল স্ত্রী নুরিমান। উফ! কি অসহ্য সুন্দর ভালোবাসা! কি আত্নত্যাগ! কি অপেক্ষা! একজন নারী যখন একজন পুরুষকে উজাড় করে ভালোবাসে তাঁর ভালোবাসায় যেন স্বয়ং ঈশ্বর এসে বাস করেন। দিনের পর দিন ইসমাইল জেলে বন্দী থাকে আর দিনের পর দিন নুরিমান ইসমাইলের অপেক্ষা করে। যখন যে শহরে নিজে যায় ইসমাইলকে নুরিমান সেই শহরে চলে যায়। কখনো দেখা পায়। কখনো দেখা পায়। কিন্তু নুরিমানে ভালোবাসা হোঁচট খায়না। সবকিছু মেনে, সবকিছু গ্রহণ করে নুরিমান ইসমাইলকে বলে, জীবন বড় সুন্দর, ব্রাদার। হিকমত মানে প্রজ্ঞা। হিমকত মানে দূরদর্শিতা। নাজিম হিকমত নিজের নামের সাথে যে সুবিচার করে গেছেন সেটা সম্ভবত খুব কম মানুষই করে যেতে পেরেছেন। পাবলো নেরুদার সাথে হিকমত যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। শেষ পর্যন্ত উনি নিজের দেশ তুরস্কে থাকতে পারেননি। তুর্কি সরকার কবিত নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত উনি নিজের দেশে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন। তাঁর ইচ্ছা পূরণ হয়নি কিন্তু প্রতিবার উনার দেশের ফেবার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। অবশেষে ৬২ বছর বয়সে কবি নাজিম হিকমত পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নেন। কবিকে মস্কোয় সমাহিত করা হয়। তবে অনেক বছর পরে নাজিম হিকমতের কিছু অনুসারি তাঁর কবরে, শিয়রের কাছে একটি তুর্কি বৃক্ষ রোপণ করে।