আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ বিবাদী পক্ষের অদ্ভুত সাক্ষীগুলো

লেখক: নিঝুম মজুমদার

বিষয়: মুক্তিযুদ্ধ

২৮৫.০০ টাকা ২৫% ছাড় ৩৮০.০০ টাকা

 ২০১০ সালের ২৫ মার্চ থেকে বাংলাদেশে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একেবারে শুরু থেকেই এই ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ও বিচারবিরোধী ব্যক্তিরা ক্রমাগতভাবে অপপ্রচার চালাতে থাকে। এই অপপ্রচার ভেঙ্গে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এর মধ্যে বড় একটা অপপ্রচার ছিল, রাষ্ট্রপক্ষ জোর করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাক্ষী ‘ধরে’ নিয়ে এসেছে এবং অভিযুক্তদের ফাঁসি দিয়ে দিয়েছে এমন ধরনের বক্তব্য। কিন্তু আসলেই কি ব্যাপারটা তাই?
এই গ্রন্থটি আসলে পাল্টা প্রশ্নটি তুলেছে যে, বিবাদী পক্ষ কীভাবে তাদের মামলা পরিচালনা করেছে? তারা কি আদৌ যুক্তি-তর্ক, তথ্য-উপাত্ত পরিপূর্ণভাবে দিতে পেরেছে আদালতকে? তারা কি আসলেই সঠিকভাবে মামলার প্রস্তুতি নিয়ে মামলা লড়েছে? রাষ্ট্রের চাপে নয় বরং বিবাদী পক্ষ হেরেছে মিথ্যাচারের কারণে। মিথ্যে সাক্ষী এনে আদালতকে ধোকা দেবার কারণে। সে প্রেক্ষিতে আমি এইবার প্রশ্ন তুলেছি বিবাদী পক্ষের হয়ে আসা সাফাই সাক্ষীদের বিরুদ্ধে। তাদের সাক্ষ্যের কার্যকারিতা নিয়ে, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। আর সে কারণেই এই গ্রন্থের অবতারনা।
সাধারণ জনতার জানবার অধিকার রয়েছে যে বিবাদীপক্ষ মামলায় হেরে যাবার একটা বড় কারণ ছিল তাদের পক্ষে আসা অদ্ভুত ও হাস্যকর সাফাই সাক্ষীগুলো যাদের কারো কারো ‘গায়েবী নাম’ মিস্টার ‘এক্স’, মিস্টার ‘ওয়াই’, মিস্টার ‘এ’ কিংবা মিস্টার ‘বি’। সাধারণ জনতা জানুক অপপ্রচারের ঠিক পাল্টা দিকে আরও কিছু জানবার থেকে যায়...বুঝবার থেকে যায়। 

পছন্দের তালিকায় রাখুন

বইয়ের বিবরণ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ নিয়ে সব সময়-ই আমার কৌতূহল ছিল সীমাহীন। একজন আইনজীবী হিসেবে কিনা জানিনা তবে এই বিচারের বিষয়টি যখন দালাল আইনের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সালের জানুয়ারি থেকে বলা যায় আগ্রহের শুরুটা ইতিহাসের সেই অংশের নথি-পত্র নিয়ে কাজ করবার সময় থেকেই। ফলে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ থেকে যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (বাংলাদেশ) এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো সেই সময় থেকেই এই বিচারকে খুব মনযোগ দিয়ে আমি প্রত্যক্ষ করেছি এবং এখনো করছি। এই বিচার বিষয়ক-ই আমার আরেকটি গ্রন্থ ২০১৮ সালের অমর একুশে বই মেলাতেই প্রকাশিত হয়েছিল যে গ্রন্থের নাম "একাত্তরের ঘাতকদের বিচারে মুসলিম আইডেন্টিটির অপব্যবহার।" 
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ: বিবাদী পক্ষের অদ্ভুত সাক্ষীগুলো এই গ্রন্থটি লেখার প্রেক্ষাপট বলা যেতে পারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়াকে খুব নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ নিয়ে দেখবার প্রেক্ষিতে যে আগ্রহ আমার তৈরি হয়েছে বোধকরি তারই কারণে। এই ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে এই বিচারবিরোধীদের পক্ষ থেকে একেবারে শুরু থেকে যে অপপ্রচারগুলো চালানো হয়েছে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, সেটি এক কথায় ভয়াবহ। বিচার প্রক্রিয়াটি যাদের পছন্দ নয় কিংবা যারা এই বিচার বন্ধের জন্য মরিয়া হয়েছিল তাদের আক্রোশ ঠিক এমন পর্যায়ের ছিল যেখানে যে কোনো মূল্যে এই বিচার প্রক্রিয়াকে বানচাল ও প্রশ্নবিদ্ধ করবার যতগুলো ধাপ রয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেকটি ধাপ-ই তারা একটা একটা করে সম্পন্ন করেছিল। এই বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠাবার ক্ষেত্রে এইসব ব্যক্তিদের চেষ্টা ও সংগ্রামের কোনো শেষ ছিলনা। এইসব অপপ্রচার একটা পর্যায়ে এসে এক বাক্যের অপপ্রচারে পরিণত হয়েছিল আর তা হচ্ছে "এই বিচার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক নয়।" এই যে মোটাদাগের অভিযোগ এই ট্রাইব্যুনাল তথা বিচার প্রক্রিয়ার উপর সেটিকে ভাঙলে অনেক কিছুই সামনে চলে আসে যার মধ্যে একটি হচ্ছে, "এই বিচারে রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর ইচ্ছে মত সাক্ষী এনেছে এবং এইসব সাক্ষীদের জোর করে অভিযুক্তদের বিপক্ষে সাক্ষী দিতে বাধ্য করেছে।" ঠিক তখনই আমার মনে প্রশ্ন উঠেছে, এই যে ক্রমাগত বলা হচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ জোর করে সাক্ষী এনেছে ও জোর করে অভিযুক্তদের বিপক্ষে বলিয়েছে এটির ঠিক বিপরীত অংশে গিয়ে দাঁড়িয়ে কি দেখা যায় যে অভিযুক্তদের পক্ষে যেসব সাক্ষীরা এসেছে তাদের আসলে মান কেমন? এসব সাক্ষীদের কে এনেছে এইসব অভিযুক্তদের পক্ষে বলবার জন্য এবং কি-ই বা তারা বলেছেন বা কি তথ্য তাদের কাছে রয়েছে এই অভিযুক্তদের পক্ষে? 
একই সাথে আমার মনে হয়েছে বিবাদী পক্ষ তাদের মামলা ঠিক কীভাবে পরিচালিত করেছে? প্রতিটি মামলাতে হেরে যাবার জন্য তাদের নিজেদের ভূমিকা কেমন বা কতখানি? কীভাবে এইসব আন্তর্জাতিক অপরাধের পুরো জুরিসপ্রুডেন্স টি বুঝতে পেরে (কিংবা আদৌ বুঝেছে কিনা) তারা মামলা প্রস্তুত করেছে কিংবা তাদের কী কী দুর্বলতা ছিল? আমি একই সাথে তাদের সাক্ষ্য মানের ব্যাপারটি ও বিবাদী পক্ষের সার্বিক প্রস্তুতি সুক্ষ্ণভাবে পর্যবেক্ষণ করতে করতে এগিয়েছি, এই ব্যাপারে অধ্যয়ন করেছি, একটি একটি করে সাক্ষ্যগুলো পড়েছি। অভিযুক্তদের মামলার এইসব নথি-পত্র পড়বার পর এবং জানবার পর আমার কাছে মনে হয়েছে বিবাদী পক্ষের এইসব সাক্ষীদের সাক্ষ্য নিয়ে আলাদা করে লিখবার অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে এবং এদের কথা সাধারণ মানুষদের জানাবার প্রয়োজন রয়েছে। আর সেই অনুধাবন থেকেই এই গ্রন্থের সূচনা। আমি দেখাতে চাই, বিবাদী পক্ষের সাক্ষ্যের মান এবং সাক্ষীদের বয়ান কি ছিল?
এই গ্রন্থটি আমি যখন লিখি সে সময়টি আমার জীবনের সবচাইতে ভয়াবহ সময়। পারিবারিকভাবে, মানসিকভাবে সর্বোপরি আমার জীবনের অত্যন্ত টালমাটাল ও বিপর্যস্ত অবস্থার সময়ে এই গ্রন্থটি আমি আসলে কোনদিন শেষ করতে পারব, এটি বেশিরভাগ সময়ে বিশ্বাস করতেই পারিনি। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে আমার যে দায়বদ্ধতা কিংবা মুক্তিযুদ্ধ বা তার ইতিহাস কিংবা এই এক সাগর রক্তের, প্রাণের আর ত্যাগের ইতিহাসের কাছে আমার দায় সেটি থেকেই শেষ পর্যন্ত এই গন্থটি আমি শেষ করেছি।

  • শিরোনাম আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশ বিবাদী পক্ষের অদ্ভুত সাক্ষীগুলো
  • লেখক নিঝুম মজুমদার
  • প্রকাশক গ্রন্থিক
  • আইএসবিএন 978 984 94814 5 4
  • প্রকাশের সাল 2021
  • দেশ বাংলাদেশ
  • ভাষা বাংলা

আলোর উৎস কিংবা ডিভাইসের কারণে বইয়ের প্রকৃত রং কিংবা পরিধি ভিন্ন হতে পারে।

এই লেখকের আরও বই
এই বিষয়ে আরও বই
আলোচনা ও রেটিং
০(০)
  • (০)
  • (০)
  • (০)
  • (০)
  • (০)
আলোচনা/মন্তব্য লিখুন :

আলোচনা/মন্তব্যের জন্য লগ ইন করুন