উত্তর রণাংগনে সংখ্যালঘু গণহত্যা ও নারী নির্যাতন

লেখক: এস. এম. আব্রাহাম লিংকন

বিষয়: মুক্তিযুদ্ধ

৩১২.৭৫ টাকা ২৫% ছাড় ৪১৭.০০ টাকা

১৯৭১ বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন বেদনার স্মৃতিসিক্তকাল। এ বছরেই বঙ্গবন্ধুর ডাকে সমগ্র বাঙালি সত্ত্বার রক্তে লেগেছিল দোল। লক্ষ কোটি মানুষ শাণিত ও প্রাণিত হয়েছিল ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে। বাঙালির সমুদ্রসম সে উচ্ছ্বাসের ঢেউ আমার সেদিনের তরুণ প্রাণেও জাগিয়েছিল দোলা। আমি তখন তরুণ অফিসার। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমে পশ্চিম পাকিস্তানের বাদিনে ফ্লাইং অফিসার হিসেবে নিযুক্ত। মর্যাদা ও আরামের চাকুরী। সেদিন সেসব বিত্তবৈভবের ভাবনা, আমুদে জীবন ত্যাগ করে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করি। বাঙালির সেই মহা দূর্দিনে আমি লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের ন্যয় ঝাঁপিয়ে পড়ি মহান মুক্তিযুদ্ধে। প্রথমে প্রতিরোধ, পরে উত্তর রণাঙ্গনে নিয়মিত ও গেরিলা যুদ্ধে সামিল হই। সামরিক যুদ্ধ পরিচালনার জন্য সমগ্র দেশ ১১টি সেক্টরে বিভক্ত হলে আমি ৬ নং সেক্টরে ন্যস্ত হই। আমাকে নিযুক্ত করা হয় চিলাহাটী সাব-সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার। সঙ্গত কারণে আমার রণকর্ম এলাকা হয় উত্তরবঙ্গের নীলফামারী ও দিনাজপুরের কিছু অংশে। 
আমরা নিশ্চয়ই অবগত আছি ২৫ মার্চের আগেই অবাঙালি অধ্যুষিত সৈয়দপুর হয়ে ওঠেছিল বিহারিদের রাজত্বাধিন নির্যাতন কেন্দ্র। রেলওয়ে ও ক্যান্টনমেন্ট প্রধান এলাকা হওয়ায় চাকুরী ও ব্যবসার কারণে বিপুল পরিমাণ অবাঙালিদের বাস ছিল সৈয়দপুর শহরে। ঐসকল অবাঙালিরা বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের বিরুদ্ধে বিপুল প্রতিপত্তি দেখিয়েছিল।
২৫ মার্চ রাতেই সৈয়দপুরের জনপ্রিয় চিকিৎসক ও নির্বাচিত নেতা ডাঃ জিকরুল হক এমপিএ সহ অসংখ্য রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে যায়। যারা পরে গণহত্যার শিকার হন। যারমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। একাত্তরে যুদ্ধের সূচনা থেকে সৈয়দপুর উলুম মাদ্রাসা সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে বাঙালি নিধন ও নির্যাতন কেন্দ্র। যেখানে হাজার হাজার নারীও বন্দি হন। ১৩ জুন ১৯৭১ হিন্দু মাড়োয়ারিদের ভারতে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে ট্রেন বোঝাই শরণার্থীদের সৈয়দপুর গোলাহাট নামক স্থানে নামিয়ে অর্ধ সহস্র হিন্দু নর-নারীকে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি হায়েনারা। শুধু তাই নয় সমগ্র যুদ্ধকালে সৈয়দপুর, নীলফামারী, দিনাজপুর লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা হয়ে ওঠেছিল বিরান বধ্যভূমি।  সমগ্র উত্তরবঙ্গে কয়েক লক্ষ মানুষ শহিদ হন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নাগরিক ছিলেন। বৃহত্তর দিনাজপুর ও রংপুরের নারী পুরুষ হত্যার নির্মমতার কাহিনী এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

পছন্দের তালিকায় রাখুন

বইয়ের বিবরণ

    মুক্তিযুদ্ধ বাঙালির জীবনে সবচেয়ে বড় ট্রাজিক মহাকাব্য। এটি অনুষ্ঠিত করতে সমগ্র বাঙালি জাতির বহুমুখি অবদান আছে। মাঠে অস্ত্র নিয়ে যেমন গেরিলা বা সম্মুখ লড়াই ছিলো তেমনি প্রয়োজন ছিলো সেটি পরিচালনায় নানা ধরণের কাজের। এ যুদ্ধে বহুমাত্রিক কাজ ছিলো। যেমন মুক্তিপাগল বাঙালির লড়াই ছিলো তেমনি ছিল স্বাধীনতা বিরোধী পক্ষের নানামুখি নির্যাতন। নির্যাতনের ধরণও ছিল নানা মাত্রিক ও অর্বনণীয়। বিশেষত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে নারী ও সংখ্যালঘুরা ছিলো পাকিস্তানিদের প্রধান টার্গেট। পাকিস্তানিদের গণহত্যা আর নির্যাতনের ভয়ে প্রায় শতভাগ হিন্দু নর-নারী গৃহত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন। যাদের বড় অংশই ভারতে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। যাঁরা মাটির মায়া ত্যাগ করে দেশত্যাগ করেননি তাঁরা লুকোচুরি করে মাটি আঁকড়ে পড়ে ছিলেন নিজের ভিটায়। তাঁদের ওপর পাকিস্তান বাহিনীর কড়া নজর ও ক্ষোভ ছিল। যেহেতু ভারত বা হিন্দুস্থান আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করছে, আমাদের বিপদগ্রস্থ শরণার্থীদের আশ্রয় দিচ্ছে সেহেতু পাকিস্তানিদের প্রবল আক্রোশ ছিলো হিন্দুদের ওপর। আর স্থানীয় দালালদের নজর ছিলো সংখ্যালঘুর সম্পদ ও নারীদের ওপর।         

  • শিরোনাম উত্তর রণাংগনে সংখ্যালঘু গণহত্যা ও নারী নির্যাতন
  • লেখক এস. এম. আব্রাহাম লিংকন
  • প্রকাশক গ্রন্থিক
  • আইএসবিএন 978 984 94814 1 6
  • প্রকাশের সাল 2021
  • দেশ বাংলাদেশ
  • ভাষা বাংলা

আলোর উৎস কিংবা ডিভাইসের কারণে বইয়ের প্রকৃত রং কিংবা পরিধি ভিন্ন হতে পারে।

এই লেখকের আরও বই
এই বিষয়ে আরও বই
আলোচনা ও রেটিং
০(০)
  • (০)
  • (০)
  • (০)
  • (০)
  • (০)
আলোচনা/মন্তব্য লিখুন :

আলোচনা/মন্তব্যের জন্য লগ ইন করুন