উঠান

লেখক: আমজাদ হোসেন

বিষয়: কথাসাহিত্য

২৮৮.০০ টাকা ২০% ছাড় ৩৬০.০০ টাকা

‘ চিনি কোথায় যাবে? ওর তো আর নিজস্ব কোনো সংসার নেই! 

ঘরে ঘরে সন্ধ্যাবাতি জ্বলে। অন্ধকার আরও গাঢ় হয়। এখানে বসেই চিনি ভাবছে তার জীবনের যত ঘটনা, যত গল্পের কথা। সব এক অচেনা নদীতে ভাসিয়ে দিয়ে সে এই উঠানেই আবার ফিরে এসেছে। এই বাড়িটা সব সময় তাকে ডাকে। নির্জনে খুব আদর করে। ভরা বর্ষার রাতে অথবা শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন কোনো নিঝুম রাতের প্রহরে রোকন এসে ডাক দেয়, চিনি, দরজা খোলো।’ 

পছন্দের তালিকায় রাখুন

বইয়ের বিবরণ

রুস্তম সরকার ছিল একজন কামলা। বিয়ে করে মনিবের মেয়ে কমলা সুন্দরীকে। কমলার স্বর্ণালংকার বিক্রি করে সে চলে যায় আসামে। কাঠের ব্যবসা করে হয়ে ওঠে আঙুল ফুলে কলাগাছ। ভাই, ভাদ্রবধূ, তাদের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি মিলে এক বিরাট সংসারের কর্তা হয়ে ওঠে সে। বড় একটা উঠানকে ঘিরে এদের বসবাস। এই বিরাট সংসার চলে রুস্তম সরকারের আঙুলের ইশারায়। সেখানে ব্যতিক্রম হিসেবে হাজির হয় রুস্তমের নাতবউ চিনি। এক বিপ্লবীর মেয়ে। এদিকে ভারতবর্ষে রাজনীতি তখন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল। চিনিকে দেখা যাবে এই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সেই সশস্ত্র আন্দোলনে জড়িয়ে পড়তে। দাদি কমলা সুন্দরী তার ঘর থেকে বের হন না, কিন্তু তিনিই হয়ে ওঠেন চিনির প্রধান অনুপ্রেরণা। 

রুস্তম সরকারের উঠানে দয়া-মায়া, প্রেম-ভালোবাসার জায়গা নেই। বাড়ির গাছে কোকিল ডাকলে গুলি করে মারে রুস্তম। তবু সেখানে প্রেম আসে এই গল্পের কথক রুস্তম সরকারের নাতি ভুবন সরকারের জীবনে। কিন্তু সব ম্লান হয়ে যায় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে। যুদ্ধ শেষে ব্রিটিশরা চলে গেলে বিপ্লবী চিনি এক নতুন রূপে হাজির হয়। রুস্তম সরকারের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তার অবরুদ্ধ উঠান মুক্তি পায়। বাংলাদেশের প্রান্তবর্তী জীবনের রূপায়ণই, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন আর স্বাধীনতা—বিরাট ক্যানভাসের এই উপন্যাস পাঠককে আন্দোলিত করবে। 

আলোর উৎস কিংবা ডিভাইসের কারণে বইয়ের প্রকৃত রং কিংবা পরিধি ভিন্ন হতে পারে।

এই বিষয়ে আরও বই
আলোচনা ও রেটিং
০(০)
  • (০)
  • (০)
  • (০)
  • (০)
  • (০)
আলোচনা/মন্তব্য লিখুন :

আলোচনা/মন্তব্যের জন্য লগ ইন করুন