আওয়ামী লীগ : যুদ্ধদিনের কথা ১৯৭১



BDT288.00
BDT360.00
Save 20%

পাকিস্তানের রাজনীতির মঞ্চে তখন তিনটি প্রধান পক্ষ—আওয়ামী লীগ, পিপলস পার্টি এবং সেনাবাহিনী। আলোচনার মাধ্যমে দ্বন্দ্ব নিরসনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং আমরা প্রবেশ করেছিলাম একটা রক্তাক্ত অধ্যায়ে। এই বইয়ে আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ-পর্বের একটা ছবি এঁকেছেন গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ।

Quantity


  • Security policy (edit with Customer reassurance module) Security policy (edit with Customer reassurance module)
  • Delivery policy (edit with Customer reassurance module) Delivery policy (edit with Customer reassurance module)
  • Return policy (edit with Customer reassurance module) Return policy (edit with Customer reassurance module)

বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্ম স্বাভাবিকভাবে হয়নি। একটি রাষ্ট্র ভেঙে আরেকটি রাষ্ট্র, তা-ও আবার আপসে নয়, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন উদাহরণ বিরল। বাংলাদেশের ঠিকুজি খুঁজতে গেলে আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ এসে পড়ে। এই বইয়ে আছে দলটির ওই সময়ের পথচলার বিবরণ, যখন দেশ একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল। এই যুদ্ধ ছিল বাঙালির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের অনিবার্য গন্তব্য। আলোচনার মাধ্যমে দ্বন্দ্ব নিরসনের সম্ভাবনা নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল এবং আমরা একটা রক্তাক্ত অধ্যায়ে প্রবেশ করেছিলাম। আওয়ামী লীগ হয়ে উঠেছিল বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। ওই পর্বের একটা ছবি আঁকা হয়েছে এই বইয়ে। 

Reviews

বীরত্ব ও আত্মত্যাগের ইতিহাস

| 28/10/2019

মহিউদ্দিন আহমদের লেখা আওয়ামী লীগ: যুদ্ধদিনের কথা ১৯৭১ বইয়ের ‘ভূমিকা’ পড়েই পাঠক হিসেবে আমরা বুঝে যাই তাঁর এ বই লেখার উদ্দেশ্য। কেননা, তিনি স্পষ্ট করেই বলেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্ম স্বাভাবিকভাবে হয়নি। একটি রাষ্ট্র ভেঙে আরেকটি রাষ্ট্র, তা-ও আবার আপসে নয়, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। এমন একটা উদাহরণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিরল। বাংলাদেশের ইতিহাসচর্চা তাই সাধারণ নিয়মের মধ্যে পড়ে না। আর দেশটির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটা রাজনৈতিক দল, আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের ঠিকুজি খুঁজতে গেলে তাই আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গ এসে পড়বেই।’ এবং ভূমিকা পাঠের পরপরই যে মুহূর্তে আমরা এর সূচিপত্রের দিকে চোখ বোলাই, দেখি, বইটি বিভক্ত মোট ছয়টি অধ্যায়ে। অধ্যায়গুলো হলো: ‘সংলাপ’, ‘অপারেশন সার্চলাইট’, ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’, ‘জঙ্গনামা’, ‘শেষ দৃশ্য’ এবং ‘উপসংহার’। আছে পরিশিষ্ট, তথ্যসূত্র এবং নির্ঘণ্ট। বইয়ের সূচনা বেশ নাটকীয়ভাবে। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর। এদিন ‘সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া নির্বাচনের ফলাফল শোনার জন্য সামি খানকে নিয়ে টেলিভিশনের সামনে আয়েশ করে বসলেন। এক এক করে ফলাফল আসছে, আওয়ামী লীগ আর পিপলস পার্টির জয়রথ ছুটে চলেছে। রাত তিনটার দিকে যখন অধিকাংশ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়ে গেছে, ইয়াহিয়া খুবই মনমরা হয়ে পড়লেন।’ তাঁর মনমরা হওয়ার কারণ একটাই, সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব বিজয়। বিজয় জুলফিকার আলী ভুট্টোর পিপলস পার্টির। এখান থেকেই শুরু দ্বন্দ্ব-সংঘাতের। হিসাব পাল্টে দেওয়া নির্বাচনী ফলাফল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে যেমন ‘প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী’ করে তুলল, তেমনি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ও ভুট্টোর আশার ভিত নড়বড়ে করে ফেলল। শুরু হলো পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নতুন করে নড়েচড়ে বসার পালা, ইয়াহিয়ার দোদুল্যমান অবস্থা এবং ভুট্টোর রাজনৈতিক দাবা খেলার কলাকৌশল। মহিউদ্দিন আহমদ ‘সংলাপ’ অধ্যায়ে যেসব প্রামাণিক ও সাক্ষাৎকারভিত্তিক তথ্য হাজির করেছেন, পাঠককে তা নিঃসন্দেহে আলোড়িত করবে। ভাবতেও সাহায্য করবে নতুন করে। মুজিব-ইয়াহিয়া আলোচনা বৈঠক যে নিছক প্রহসনমূলক ছিল, লেখক তা জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। ভুট্টোর মুখোশও উন্মোচন করেছেন তিনি নির্ভরযোগ্য তথ্য পেশ করেই এবং সেই সঙ্গে লেখক তুলে ধরেছেন তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শেখ মুজিবের আনুপূর্বিক ভূমিকাও। ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এ মহিউদ্দিন তুলে ধরেন ১৯৭১-এর ১ মার্চে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার ঘোষণার কথা, তার প্রতিক্রিয়ায় ঢাকাসহ সারা দেশে বাঙালি জনতার প্রচণ্ড বিক্ষোভ ও মিছিলের বিবরণ, পাল্টে যায় পাকিস্তানের পরিচয়বাহী স্থান, স্থাপনা ও সড়ক ইত্যাদির নাম। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনে ওড়ানো হয় বাংলাদেশের পতাকা। অনুষ্ঠিত হয় সভার পর সভা। এই সময়ই ঠিক করা হয় রবীন্দ্রনাথের লেখা ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি হবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত। এসবের প্রতিরোধে নামে সামরিক বাহিনী। বিক্ষুব্ধ জনতার ওপরে দেশজুড়ে চলে গুলি। হতাহতের সংখ্যা বাড়ে। আসে সেই ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ভাষণ। দেখতে দেখতে চলে আসে নানা উত্থান-পতনের পর ২৫ মার্চের সেই ভয়াল কালরাত—অপারেশন সার্চলাইট। স্বাধীনতার ঘোষণা। প্রতিরোধযুদ্ধের শুরু। বঙ্গবন্ধুকে আটক করে প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে, সেখান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। লেখক এ পর্যায়ে আমাদের জানাচ্ছেন, ‘বঙ্গবন্ধু যদি একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা করতেন, তাহলে কী হতো? এ নিয়ে অনেক আলোচনা ও বিতর্ক হতে পারে। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে মনে হয়, তাঁকেও অন্যদের সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যেতে হতো। এটি তিনি চাননি। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন তাঁর নিজের শর্তে, তাঁর নিজের ক্ষমতায়।’ তারপর তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ১৯৭১-এর ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার বৈদ্যনাথতলায় প্রবাসী সরকার গঠন, সেনাধ্যক্ষ নির্বাচন, খোন্দকার মোশতাকের ষড়যন্ত্র, প্রবাসী সরকারের অন্তর্কলহ, িবশ্ব–পরিসরে মুক্তিযুদ্ধের অনুকূলে ও তার িবরুদ্ধে তৎপরতা, ষড়যন্ত্র, যুদ্ধের সেক্টর গঠন, শরণার্থীশিবিরে বাংলাদেশ ছেড়ে আসা মানুষজনের আশ্রয় গ্রহণ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রতি ভারতের সরকারসহ ভারতীয় জনগণের সহানুভূতি ও বস্তুগত সমর্থন প্রদান, সরাসরি যুদ্ধের শুরু, যৌথ বাহিনীর অধীনে—এ সবকিছুই উঠে এসেছে তথ্যের পর তথ্যসহযোগে। জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদে এ সময় কোন রাষ্ট্রের কী ভূমিকা ছিল, তার বিবরণও আছে বইতে। অন্তিমে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শোচনীয় পরাজয়, মুক্তি ও মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। লেখকের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তথ্যের সমাহারে তিনি একনৈতিকতার আশ্রয় নেননি। এভাবেই সমাপ্তি আলোচ্য বইয়ের। যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের শুরু ও সংগঠন, তথ্যসূত্রের সমাহারে তারই ইতিহাস তুলে ধরে মহিউদ্দিন আহমদ এক গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ভুল থাকা স্বাভাবিক। বিতর্কও হতে পারে এসব নিয়ে। সে কথা লেখক লিখেছেন বিনয়ের সঙ্গে। চলুন বইটি পড়ি।