আওয়ামী লীগঃ উত্থানপর্ব ১৯৪৮-১৯৭০



BDT400.00
BDT500.00
Save 20%

একটা জনগোষ্ঠীর জেগে ওঠার কাহিনি লেখা হয়েছে এ বইয়ে। এর সঙ্গে মিশে আছে একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম ও বেড়ে ওঠার গল্প, সাংবিধানিক গণতন্ত্র আর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নিরন্তর লড়াই। অনুসন্ধানী গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ অতীত খুঁড়ে জানা-অজানা অনেক তথ্য তুলে এনেছেন এ বইয়ে, যা পাঠককে টেনে নিয়ে যাবে ইতিহাসের মহাসড়কে। 

Quantity


  • Security policy (edit with Customer reassurance module) Security policy (edit with Customer reassurance module)
  • Delivery policy (edit with Customer reassurance module) Delivery policy (edit with Customer reassurance module)
  • Return policy (edit with Customer reassurance module) Return policy (edit with Customer reassurance module)

এ দেশে বিভিন্ন সময়ে গড়ে উঠেছে অনেক রাজনৈতিক দল। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নানা দিক থেকেই ব্যতিক্রম। আওয়ামী লীগ পুরোনো একটি দল। বিশাল এর ক্যানভাস। আওয়ামী লীগের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে অবধারিতভাবে চলে আসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। একজন ব্যক্তি, একটি রাজনৈতিক দল এবং একটি দেশ যখন এক মোহনায় মিশে যায়, তখন তাদের আলাদা করে দেখা বেশ কঠিন। নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলটি একসময় হয়ে উঠেছে রাজনীতির মূলধারা এবং ধীরে ধীরে এর নেপথ্য থেকে উঠে এসেছে একটি জনগোষ্ঠীর জেগে ওঠার গল্প। স্মৃতি-বিস্মৃতির ঝাঁপি খুলে গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ ছেঁকে তুলেছেন এই দলের উত্থানপর্ব। 

Reviews

উত্থানপর্বের অনুপুঙ্খ ইতিহাস

| 28/10/2019

ইতিহাস-অনুসন্ধিৎসু লেখক-প্রাবন্ধিক মহিউদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে বহুধা-বিস্তৃত তথ্যসূত্র ও সাক্ষাৎকারের আশ্রয় নিয়েছেন। আওয়ামী লীগ: উত্থানপর্ব ১৯৪৮-১৯৭০ নামের আলোচ্য এই বই রাজনৈতিক দলটির ইতিহাসের প্রথম খণ্ড। বইয়ে আছে মোট ১৫টি অধ্যায়। ১৯৫৬ সালের ডিসেম্বরে চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইয়ের সফর উপলক্ষে ঢাকায় আওয়ামী লীগের দেওয়া এক সংবর্ধনা সভায় মানপত্র পড়ছেন তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান। বাঁয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ১৯৫৬ সালের ডিসেম্বরে চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাইয়ের সফর উপলক্ষে ঢাকায় আওয়ামী লীগের দেওয়া এক সংবর্ধনা সভায় মানপত্র পড়ছেন তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান। বাঁয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ছবি: সংগৃহীত বইয়ের সূচনায় ভূমিকায় লেখক লিখছেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর আদি-অন্ত ঘাঁটাঘাঁটি করছি। এবার আমার বিষয় ‘আওয়ামী লীগ’। এই দলটিকে নানাভাবে দেখা যায়। চেষ্টা করেছি এর সুলুকসন্ধান করতে। আমি হাত দিয়েছি বড় একটা ক্যানভাসে। কাজটা খুবই কঠিন।’ আরও জানাচ্ছেন, গতানুগতিক কিছু লিখতে চান না তিনি। তিনি লিখতে চান ‘একটা মহাসড়কের ইতিবৃত্ত। এই সড়কের সবটুকু মসৃণ নয়। অনেক খানাখন্দ আছে, আছে চড়াই-উতরাই। শুধু লেখার জন্য লেখা নয়। আমার সঙ্গে পাঠকও হাঁটবেন ওই পথ ধরে। আমি পাঠককে মনগড়া কেচ্ছা শোনাতে চাই না। আমি চাই, আমরা একসঙ্গে ইতিহাসের মধ্যে প্রবিষ্ট হব।’‘ইতিহাসে প্রবিষ্ট’ হতে গিয়ে এ বইয়ে মহিউদ্দিন আহমদ আদতেই বিষয়ের গভীরে আশ্রয় সন্ধান করেছেন। আওয়ামী লীগের জন্মের পটভূমি যে এ দেশের দুই বড় ধর্ম-সম্প্রদায়ের অর্থাৎ হিন্দু ও মুসলমানের আচার-সংস্কারের গভীরে প্রোথিত ছিল, তার উৎস খুঁজতে গিয়ে লেখক ‘দেশভাগ’ অধ্যায়ে এমন সব তথ্য পেশ করেছেন, যার প্রয়োজন ছিল অনিবার্য। বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা প্রতিপন্ন করতে গিয়ে তিনি চলে গেছেন এগারো শতকে। ‘এশিয়ার বিখ্যাত ভারতত্ত্ববিদ’ আল বেরুনির ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ পর্যন্ত তুলে এনেছেন। তুলে ধরছেন ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯০৬, ১৯২৯, ১৯৩৩, ১৯৩৫, ১৯৩৬, ১৯৩৭ সাল সময়-পরিসরে বাঙালি-অবাঙালিনির্বিশেষে মুসলমান সম্প্রদায়ের নড়েচড়ে ওঠা। তাদের উদ্যোগে নানা সংগঠন গড়ে ওঠা, পাকিস্তানের দাবির অনুকূলে তাদের মধ্যকার জাগরণ, সবশেষে রক্তাক্ত অধ্যায়ের ভেতর দিয়ে ভারত ভেঙে দুটি রাষ্ট্র—ভারত ও পাকিস্তানের জন্ম হওয়া। একই সঙ্গে বাংলা ভাগ হওয়া এবং পূর্ববঙ্গের পাকিস্তান রাষ্ট্রের অংশভুক্ত হওয়া—এই ইতিহাসটুকুর উল্লেখ থাকায় ভবিষ্যৎ আওয়ামী লীগের জন্মের ইতিহাস বোঝা একটু সহজ হয়েছে বৈকি। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাঙালিরা প্রথমে আন্দোলন শুরু করল বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে। এতে যুক্ত হলো বাম, ডান—নানা দল ও মতের সংগঠন। মুসলিম লীগের চোখের সামনেই গড়ে উঠল গণআজাদী লীগ, ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিশ, আওয়ামী মুসলিম লীগ; তারপর আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে এসে একটি অংশের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠন, তার অভাবিত বিজয়, প্রদেশজুড়ে মুসলিম লীগের কবর রচনা, যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগে সরকার গঠন, সেই সরকারের টানাপোড়েন, রাজনৈতিক নানা পরিবর্তন, যুক্তফ্রন্টের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, তার ভেতরেই কিছু কিছু সমস্যার সমাধান। কিন্তু এত কিছুর পরও পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক মহল চায়নি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গণতন্ত্রের চর্চা হোক। জেনারেল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনকালে নিষিদ্ধ হলো রাজনীতি। চলল ব্যাপক ধরপাকড়। তবে বাঙালি এ সময় থেমে থাকেনি। ১৯৬২-তে আইয়ুবের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ছাত্রসমাজ, সাধারণ মানুষও। এরপরের ধাপে শেখ মুজিবুর রহমানের (তখনো বঙ্গবন্ধু হননি) গোপনে আগরতলা যাওয়া, বাংলাদেশকে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে ভারতের সাহায্য কামনা। ভারতের তখনকার বাস্তবতায় সেই মিশন ব্যর্থ হওয়া। এই সমস্ত প্রেক্ষাপটেই আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন-পর্ব অথবা পুনর্জন্ম-পর্বের সূচনা। এবার দলটি ‘একলা চলা’র নীতি গ্রহণ করল। পেশ করল ছয় দফা। এটি জনপ্রিয় হলো ‘মুক্তির সনদ’ হিসেবে। এ সময় দলটির ভরসাস্থল ছিল ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের তরুণ ও প্রবীণ ত্যাগী নেতা-কর্মী। এর মধ্যে আইয়ুব সরকার শেখ মুজিবসহ আরও কিছু সামরিক-বেসামরিক পদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জারি করল কথিত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। বন্দী হলেন শেখ মুজিব। গণদাবির মুখে কারামুক্তও হলেন আবার। এ সময় পদত্যাগ করলেন আইয়ুব খান। ক্ষমতায় এলেন ইয়াহিয়া। হলো ১৯৭০-এর নির্বাচন। সেখানে নিরঙ্কুশভাবে বিজয়ী হলো আওয়ামী লীগ। পাল্টে গেল সামরিক জান্তা ও পশ্চিমা ধনিক গোষ্ঠীর সমস্ত হিসাব-নিকাশ। গোটা পুস্তকে বিস্তারিতভাবে—১৯৪৮ থেকে ১৯৭০—সময়সীমার মধ্যে আওয়ামী লীগের উত্থানপর্বের ইতিহাস মহিউদ্দিন আহমদ তুলে ধরেছেন অনুপুঙ্খভাবে। ভূমিকায় খানিকটা উপসংহারসুলভ উচ্চারণে লেখক যে কথা বলেছেন, সেটি দিয়েই শেষ করছি এই বইয়ের আলোচনা, ‘আওয়ামী লীগের ইতিহাস আলোচনা করতে গেলে অবধারিতভাবে চলে আসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। একজন ব্যক্তি, একটা রাজনৈতিক দল ও একটা দেশ যখন এক মোহনায় মিশে যায়, তখন তাদের আলাদা করে দেখা বা বোঝা কঠিন একটা কাজ। এ কাজই করতে হচ্ছে আমাকে। এ জন্যই আওয়ামী লীগ আর শেখ মুজিব সমার্থক হয়ে উঠেছেন বারবার এবং ধীরে ধীরে নেপথ্য থেকে উঠে এসেছে একটা জাতিরাষ্ট্রের জন্মকথা।’