শান্তিরক্ষী বিশ্বশান্তি রক্ষায় ৩০ বছর



BDT450.00
BDT600.00
Save 25%

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা খুবই গৌরবের। বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা কাজ করেছেন সাহস, দক্ষতা, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগের ব্রত নিয়ে; সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানবিকতা। তাঁরা যে দেশেই গেছেন, সে দেশের মানুষের হৃদয় জয় করেছেন। মিশন দেখতে আমি নিজে গিয়েছিলাম আইভরিকোস্টে, সেই গৌরবের প্রত্যক্ষ একজন সাক্ষী আমি। এই বইয়ের প্রাণবন্ত লেখাগুলো গল্পের মতো আকর্ষণ করে, চোখের সামনে সবকিছু তুলে ধরে ছবির মতো। প্রিয় পাঠক, আসুন, শান্তিরক্ষীদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা মানবিক গল্পগুলো দিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতাকে ঋদ্ধ করি।

আনিসুল হক 

Quantity


  • Security policy (edit with Customer reassurance module) Security policy (edit with Customer reassurance module)
  • Delivery policy (edit with Customer reassurance module) Delivery policy (edit with Customer reassurance module)
  • Return policy (edit with Customer reassurance module) Return policy (edit with Customer reassurance module)

দুর্গম, রুক্ষ আর বন্ধুর সব প্রান্তরে অজস্র বিনিদ্র রাত আর রক্ত-ঘামঝরা দিন কাটিয়েছেন বাংলার শান্তিরক্ষীরা। পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা, পানি আর খাবারের কষ্ট, সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের রক্তচক্ষু আর এইডস-ইবোলার ঝুঁকি সঙ্গী করে তাঁরা পথ চলেছেন। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে নিরলস পরিশ্রম এবং ত্যাগস্বীকার করে যাচ্ছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে ৪ মহাদেশের ৪০টি দেশে ৫৪টি শান্তিরক্ষা মিশনে ১ লাখ ৪৪ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শতাধিক শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন, দুই শতাধিক শান্তিরক্ষী বরণ করেছেন পঙ্গুত্ব।

নানা দেশে দায়িত্ব পালন করেছেন এমন ৩১ জন শান্তিরক্ষীর অভিজ্ঞতার বয়ান এই সংকলনে অন্তভু‌র্ক্ত হয়েছে। রচনাগুলো আপনাকে নিয়ে যাবে বিশ্বের নানা জনপদ ও প্রান্তরে। আপনি বিস্মিত ও মুগ্ধ হবেন, দূর দেশের কোনো মানব-মানবীর জন্য হাহাকার করে উঠবেন কখনো কখনো। 

Data sheet

Title
শান্তিরক্ষী বিশ্বশান্তি রক্ষায় ৩০ বছর
Author
মেজর মোঃ দেলোয়ার হোসেন
Publisher
প্রথমা প্রকাশন
ISBN
9789849326052
Publishing year
2018
Binding
Hard binding
Language
বাংলা
Number of page
315

Reviews

শান্তি সারথিদের স্বর্ণালি স্মৃতি

| 28/10/2019

আফ্রিকার দেশগুলো শুধু ঘন সবুজ অরণ্যে শ্বাপদসংকুলই নয়, একই সঙ্গে ভয়ংকর রকম সংঘাতপ্রবণ। গত শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে এই মহাদেশে জাতিগত সংঘাতের নতুন এক মাত্রা যুক্ত হয়েছে। রুয়ান্ডায় হুতি-তুতসিদের (১৯৯৪) প্রাণঘাতী সংঘাত বিশ্বজুড়ে নৃশংস গণহত্যার উদাহরণ হিসেবে আজও কুখ্যাত। এ ছাড়া সিয়েরা লিওন থেকে শুরু করে সদ্য স্বাধীন দক্ষিণ সুদানে সংঘাত-সংঘর্ষ, প্রাণহানি, রক্তপাত চলছেই। আর এই সংঘাতের মধ্যেই হালকা নীল রঙের হেলমেট পরে, জীবন হাতে নিয়ে শান্তির জলপাই পাতা ফেরি করে আসছেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। শুধু সংঘাত নিরসনেই নয়, অবকাঠামো নির্মাণে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। সংঘাত থামানো ও অবকাঠামো উন্নয়নের এই কর্মযজ্ঞে প্রাণও বিসর্জন দিচ্ছেন লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। সবশেষ তথ্যে জানা যায়, বিশ্বে শান্তির পতাকা ওড়াতে এখন পর্যন্ত ১৩৪ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী প্রাণ দিয়েছেন। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন দুই শতাধিক। শান্তিরক্ষী শিরোনামের বইটি মূলত শান্তি সারথিদের কথা। ৩৩ অনুচ্ছেদের অনন্য এক সংকলন। বিশ্ব শান্তিতে ৩০ বছর ধরে বাংলাদেশ যে অবদান রেখে আসছে, সেই সব সোনালি অধ্যায়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে মেজর মো. দেলোয়ার হোসেন গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন। শান্তিরক্ষীরা তাঁদের মূল্যবান অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন বইটির পাতায় পাতায়। এতে যেমন রয়েছে ডিআর কঙ্গোর আ্যভেবায়ের রক্তারক্তির কাহিনি, আছে আইভরি কোস্টের বিস্কুট ও বুলেটের কথা। বিস্কুট ও বুলেটের গল্প তুলে ধরতে গিয়ে মেজর মোহসীন হাসান ইমরান (বিএসপি) বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে গ্রামের তুলনামূলক বর্ণনা দিয়েছেন। আইভরি কোস্টের একটি গ্রামের বর্ণনায় তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের গ্রামজুড়ে যে স্নিগ্ধতা থাকে তার ছিটেফোঁটাও নেই এখানে; বরং কেমন একটা মন খারাপ করা বিষণ্ন ভাব আর রুক্ষতা ছড়িয়ে আছে চারপাশে।’ সহজেই অনুধাবন করা যায়, কতটা প্রতিকূল পরিবেশ আর মানসিক চাপ নিয়ে কাজ করতে হয় সৈন্যদের। আফ্রিকার পরিবেশগত রুক্ষতা ও মিলিশিয়াদের বর্বরতার গা শিউরানো বর্ণনা পাওয়া যায় মেজর মো. হাসান শাহরিয়ারের ‘ভিলেজ চিফ মাগুরো’ স্মৃতিকথায়। এতে উঠে এসেছে একজন গ্রামপ্রধান (মাগুরো), অপহৃত ইউরোপীয় সাংবাদিক এবং ইউএনডিপির উন্নয়নকর্মীদের কীভাবে উদ্ধার করেছিলেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। শান্তিরক্ষীতে পাওয়া যাবে এমন অনেক গৌরবগাথার বিস্তর বিবরণ। ১৯৫২ সালে রক্তের বিনিময়ে যে ভাষা আমরা পেয়েছিলাম, সেই বাংলা ভাষাকে সিয়েরা লিওন সরকার তাদের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ২০০২ সালে। ভাষার সেই গৌরব অর্জন আর বর্তমানে আফ্রিকার বুকে বাংলা ভাষার ব্যবহার ও প্রয়োগ নিয়ে বিস্তর বর্ণনা দিয়েছেন মেজর (অব.) মো. আসাদুল্লাহ (পিএসসি)। তিনি তাঁর অভিজ্ঞতায় লিখেছেন, ‘আমাদের মাতৃভাষা দিয়েই একটা বিবদমান দেশের মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছি। এরই প্রতিদান হিসেবে একদিন পুরো বিশ্ববাসীকে অবাক করে দিয়ে সিয়েরা লিওন সরকার বাংলা ভাষাকে তাদের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করল।’ আসলেই কী অনন্য অর্জন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের, কী অসাধারণ অর্জন বায়ান্নর শহীদদের। তাঁদের আত্মত্যাগ আর সেনাবাহিনীর অফিসার ও সদস্যদের আন্তরিক পেশাদারির ফলাফল হিসেবে আজ আফ্রিকার গহিনে উচ্চারিত হচ্ছে বাংলা শব্দ। মানুষ মনের ভাব প্রকাশ করছে আমাদের বাংলা ভাষায়। এ রকম নানা অর্জন আর বিসর্জনের কাহিনিই পাঠকের জন্য অপেক্ষা করছে শান্তিরক্ষী নামের বইয়ে। শান্তিরক্ষা মিশনে বর্তমানে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর কর্মকর্তারাও কৃতিত্বের সঙ্গে অবদান রাখছেন। ফলে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ফিরোজ আল মুজাহিদ খানের একটি স্মৃতিকথা স্থান পেয়েছে এখানে। তিনি লিখেছেন সার্জেন্ট মারভিনের কথা। জ্যামাইকার পুলিশ সার্জেন্ট মারভিনের দুঃখগাথা বর্ণনা করতে গিয়ে তুলে ধরেছেন লাইবেরিয়ার সংঘাত আর সংকটের নানা গল্প। এই অংশে একজন প্রাণোচ্ছল, সহজ-সরল, হাসিখুশি মারভিনের জীবনকথা পাঠকের ভালো লাগতে পারে। তবে বইটিতে শান্তি মিশনে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া বাংলাদেশি সৈনিক-অফিসারদের সম্পর্কে আরও বেশি কিছু থাকলে আরও ভালো হতো। তাঁরাই তো এ দেশের সাম্প্রতিক সময়ের প্রকৃত ‘বীর’, যাঁরা মাথায় নীল হেলমেট আর হাতে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে শান্তি স্থাপনে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন এবং দিচ্ছেন। আশা করছি, আগামীতে সেসব কাহিনি আরও বিস্তারিতভাবে উঠে আসবে। এ রকম বিচিত্র বিষয় নিয়ে চমৎকার একটি বই প্রকাশ করার জন্য প্রথমা প্রকাশনকে ধন্যবাদ।