জিম্বাবুয়ে বোবা পাথর সালানিনি



BDT262.50
BDT350.00
Save 25%

লেখক জিম্বাবুয়েতে যান নজিরবিহীন নিপীড়নে মানুষের দুঃখ, সংঘাত ও মৃত্যু সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করতে। তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে তিনি বহিষ্কৃত হন। আবার বিপুল ঝুঁকি নিয়ে ফিরে যান, মেলামেশা করেন হরেক রকম মানুষের সঙ্গে। নিভৃতে নিজেকে প্রশ্ন করেন—হীরা ও স্বর্ণের বিপুল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশটি কেন তার চল্লিশ লাখ মানুষের আহার জোটাতে পরছে না? লেখকের সহজ ভাষা, অতুলনীয় রসবোধ আর মানুষের প্রকৃত সত্তা তুলে ধরার ক্ষমতা ভ্রমণগল্পগুলোকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। 

Quantity
There are not enough products in stock


  • Security policy (edit with Customer reassurance module) Security policy (edit with Customer reassurance module)
  • Delivery policy (edit with Customer reassurance module) Delivery policy (edit with Customer reassurance module)
  • Return policy (edit with Customer reassurance module) Return policy (edit with Customer reassurance module)

জিম্বাবুয়েতে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে লেখক পর্যবেক্ষণ করেন কাঠকয়লার অগ্নিবৃত্তে চিত্রিত ঢাল ও বল্লম নিয়ে বৃষ্টির প্রত্যাশায় দাঁড়িয়ে থাকা জিম্বাবুয়ের কজন কবিকে। সবুজাভ পাথরের মূর্তি নিয়ে সঙ্গোপনে এসে দাঁড়ান বাসস্টপে। বিউটি সেলুনে তাঁর সঙ্গে দেখা হয় দেশটির সাম্প্রতিক কালের আন্ডারগ্রাউন্ড লেখকদের সঙ্গে। কিছুদিন বাস করেন উৎখাত হওয়া শ্বেতাঙ্গ এক চাষির পোড়ো বাংলোয়। দেখা হয় বিলাতের মেয়ে ব্লসমের সঙ্গে, যে ফ্রেস্কো আঁকতে আঁকতে মাটোপস হিলে আত্মহননের কথা ভাবে। গাঁয়ের বিপন্ন কজন মানুষ তাম-তা-তাম ঢোলক বাদ্যের ভেতর হরিণের রক্তে মদ মিশিয়ে নালিশ জানাচ্ছে তাদের রাজাধিরাজের সমাধিতে। অনটনে অতীষ্ঠ ক্রিস্টিনা পাচার করে সম্পত্তি হারানো এক শ্বেতাঙ্গ লেখকের পাণ্ডুলিপি। অন্ধ মাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে নিয়ে আসার জন্য সে টাকা জমাচ্ছে। একটু আগেও পিয়ানো বাজিয়েছে সালানিনি। বিদায় জানাতে গিয়ে আসন্ন মৃত্যুর ছায়ায় লক্কা পায়রার মতো শরীর ঘুরিয়ে খোশমেজাজে গুনগুন করে গান গায় সে। এ বইয়ের মানুষগুলোকে পাঠক সহজে ভুলতে পারবেন না। 

Reviews

জিম্বাবুয়ের দুঃখগাথা

| 12/11/2019

সতীনাথ ভাদুড়ী লিখেছিলেন ‘যারা বুদ্ধিমান, তারা ভ্রমণকাহিনীও পড়ে না,... তারা বলে মিথ্যেটাকে মিথ্যের মতো করে লিখলে তাকে বলে উপন্যাস; আর মিথ্যেটাকে সত্যের মতো করে লিখলে হয় ভ্রমণকাহিনী...।’ তবে মঈনুস সুলতানের ভ্রমণকাহিনি পড়ে বোঝার উপায় নেই সত্যকে মিথ্যের মতো করে লেখা, নাকি মিথ্যেকে সত্যের মতো করে। প্রথামাফিক ভ্রমণকাহিনি বলতে কোনো দেশের বা জায়গার যে রকম টানা বর্ণনা থাকে, মঈনুস সুলতানের জিম্বাবুয়ে: বোবা পাথর সালানিনি বইটি ঠিক সে ধারার নয়। ছোটগল্পের আকারে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রসঙ্গ নিয়ে তাঁর বিষয় নির্বাচন যেন জিম্বাবুয়ের একেকটা স্ন্যাপশট। সেই শটগুলোর ডিটেলস দিতে গিয়ে তাঁর ভাষা, উপমা ও চিত্রকল্প মিলে কৌতুকরস এবং কাব্যরসের একটা অনুপম আবহ সৃষ্টি করে। বাংলা ভ্রমণসাহিত্যকে সৈয়দ মুজতবা আলী যে উচ্চতায় তুলে দিয়েছিলেন, মঈনুস সুলতান সেই ধারাটিকে উচ্চতর জায়গায় নিয়ে যাওয়ার প্রয়াসে সিদ্ধকাম হয়েছেন। গ্রন্থভুক্ত তাঁর ভ্রমণগল্পগুলোর প্রতিটিতে রয়েছে রবার্ট মুগাবে এবং তাঁর ঠ্যাঙাড়ে বাহিনীর হাতে বিপর্যস্ত মানবতা ও অর্থনীতির খুব ঘনিষ্ঠ বিবরণ। সরকারি দল জানুপিএফের ক্যাডারদের মাস্তানি, জবরদখল, লুটপাট, গণধর্ষণ—এসব অনাচারের খুব বাস্তব খতিয়ানও পাওয়া যাবে বইটিতে। মঙ্গার কারণে দেশত্যাগী হতদরিদ্র মানুষের পাশাপাশি বারবার ঘুরেফিরে এসেছে লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতিতে জেরবার মানুষ ও অর্থনীতির প্রসঙ্গ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব, বিদেশি সাহায্য সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যমগুলোকে বহিষ্কারের মতো তথ্যও লেখক তুলে এনেছেন তাঁর সহজাত ভঙ্গিতে। জিম্বাবুয়েতে পুরুষানুক্রমে বসবাসরত শ্বেতাঙ্গ পরিবারগুলোকে তাদের সহায়-সম্পত্তি থেকে উৎখাত এবং জবরদখলের মর্মস্পর্শী বর্ণনা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে মুগাবের অত্যাচারের শাস্তিস্বরূপ দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে ভেঙেপড়া অর্থনীতির হালহকিকত। স্টাউনটন পরিবারের খামার দখল করে তাঁদের সন্তানসম্ভবা পুত্রবধূকে ধরে এনে বিবস্ত্র অবস্থায় নাচতে বাধ্য করলে তাঁর গর্ভপাত হয়ে যায়—এমন তথ্য জানার পর শ্বেতাঙ্গদের শোষণ কিংবা কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকারবিষয়ক আমাদের তৃতীয় বৈশ্বিক আবেগ বিপরীত স্রোতে বইতে শুরু করে। বইটির তথ্যমতে, একমাত্র ২০০০ সালেই চার হাজার শ্বেতাঙ্গ সম্পন্ন কৃষক পরিবারকে উৎখাত করা হয় দেশটি থেকে। জিম্বাবুয়ের এসব অন্যায় নিপীড়নের সঙ্গে তাঁর লেখায় আরও ধরা পড়ে দেশটিতে প্রাণঘাতী এইডস রোগের বিস্তৃতি এবং আক্রান্ত মানুষের করুণ মৃত্যু। জানা যায়, দেশটির ২৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের শরীরে রয়েছে রোগটির জীবাণু, সপ্তাহে গড়পড়তা মৃত্যুর সংখ্যা তিন হাজারের মতো। মঈনুস সুলতানমঈনুস সুলতানের কাহিনিতে যে চরিত্রগুলো উপস্থাপিত, তাদের প্রত্যেকের জীবনে রয়েছে নিজস্ব কোনো ট্র্যাজেডি। সালানিনির কথাই ধরা যাক। এইডস আক্রান্ত অকালপ্রয়াত এই তরুণী, এই স্কুলশিক্ষিকা তার জীবনকাহিনি শোনাতে লেখকের সঙ্গে বাইরে গেলে তার মায়ের ধারণা হয়, মেয়ে যাচ্ছে অভিসারে। কিংবা নাইজেরীয় টোপে আবেলোভির কথা, যার সৎ বাবা তাকে যৌন নিপীড়ন করে। অথবা একসময়কার মডেল ব্লসম, যার ছেলে জন্মাবধি পড়ে আছে বিলাতের কোনো অনাথালয়ে। এসব অভিজ্ঞতার কথা লিখতে তিনি যে ভাষা, উপমা ও চিত্রকল্প প্রয়োগ করেন তার কিছু উদাহরণ দেওয়া যায়: ‘তাদের চোখেমুখে স্টেডিয়ামে হেরে যাওয়া ফুটবল ক্লাবের সাপোর্টারদের মতো যুগপৎ ক্রোধ ও বিষাদের অভিব্যক্তি।’ ‘তাঁর বিস্তৃত ধূসর দাড়িতে লেগে থাকা রুটির টুকরা মাকড়সার জালে আটকানো পতঙ্গের মতো দোলে।’ ‘শিলাশৃঙ্গ তিনটিকে দেখায় বৃহৎ গোলাকার ঢাকনা খোলা শিরনির ডেগের মতো।’ ‘ডালা খোলা কফিনের মতো পরিত্যক্ত খনিমুখ।’ লেখকের সঙ্গে যেসব নারী চরিত্রের সাক্ষাৎ ঘটেছে, তাদের বর্ণনাতেও রয়েছে মৌলিকতার ছোঁয়া: ‘নাকাতুলের নিতম্বের বর্তুলে শনির বলয়ের মতো জড়িয়ে আছে কড়ির বিছে হার।’ ‘....খিলখিল করে হাসতে শুরু করলে তাঁর আংশিক অনাবৃত স্তনাঞ্চলে যবের খেতে হঠাৎ হাওয়ার দোদুল্যমানতা দৃষ্ট হয়।’ ‘খাঁচায় আটকানো জোড়া পাখির মতো যেন ডানা ঝাপটায় তার ভরাট স্তনযুগল।’ ‘চিত্রে অর্ধসমাপ্ত স্তনযুগলকে ট্রাফিক লাইটের কুয়াশা জড়ানো হলুদ বাতির মতো দেখায়।’ লেখকের ভাষায় কাব্যময়তা এবং গদ্যশিল্পীর অনায়াস দক্ষতার এক দুর্লভ সহাবস্থান আছে, যার কিছু উদাহরণ দেওয়া উচিত: ‘বাজনাটি ভেঙে ভেঙে স্রোতে ভেসে যাওয়া বাসি ফুলের তোড়ার মতো খাবি খায়।’ ‘পরের অঙ্কে লেখক তাঁর নদীজল-বঙ্কিম দেহে শরীরী ভালোবাসার অনুষঙ্গ ফোটালে জেমস মুজুরু বলে হারারের এক হিপহপ কবি অ্যায়সা যোশ কাতর হয়ে পড়েন যে তিনি হরিলুটের বাতাসার মতো দু-মুঠো কনডম ছিটিয়ে এইডস-আক্রান্ত এ দেশে বস্তুটি রক্ষাকবচের মতো প্রয়োজনীয় অঙ্গে ধারণ করতে অ্যাপিল জানান।’ মঈনুস সুলতানের স্বকীয় ভাষারীতির ভেতর তিন ধরনের শব্দ তিনি অবলীলায় ব্যবহার করেন—আরবি-ফারসি, যেমন: তালাশ, তাকদ, কোশেশ, কিসিম, গর্দিশ, হালত, জিল্লতি; কিংবা ইংরেজি, যেমন: কেওস, মেইনটেইন, সাপরেসড, কমিউনিকেট, সারফেস, কালেক্ট, কিউরিয়াস, ইমপ্রেসড অথবা আঞ্চলিক কথ্য, যেমন: আবজাব, টালটিবালটি, ছেরাবেরা ইত্যাদি। এ জাতীয় শব্দের ব্যতিক্রমী ব্যবহার তাঁর রচনাগুলোকে পরিণত করে খুব অন্তরঙ্গ গল্পকথনে। ভ্রমণকাহিনির আদলে বইটি মূলত কতিপয় ভিনদেশি নরনারীর জীবনযাপন এবং প্রকাশ্য ও গোপন বেদনার মানবিক দলিল।

কালো মানুষের দেশে

| 12/11/2019

আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের দেশ জিম্বাবুয়ে যখন প্রচণ্ড মুদ্রাস্ফীতি ও স্বৈরশাসনের জাঁতাকলে বিধ্বস্ত, ‘চূড়ান্ত অসুখী’ তকমা এঁটে তাকে পার করতে হচ্ছে এক ভয়ংকর ক্রান্তিকাল, ঠিক সে রকম সময়ে একজন ভিনদেশি পর্যটকের চোখে দেখা ছোট ছোট খণ্ডচিত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে জিম্বাবুয়ে বোবা পাথর সালানিনি বইটি। আফ্রিকার অন্যান্য দেশের মতো এখানেও আমরা লক্ষ করি নানা তন্ত্রমন্ত্র আর তুকতাকের লোকসংস্কৃতি। ১৮০০ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীনে দক্ষিণ রোডেশিয়া নামে পরিচিত ছিল দেশটি। ১৯৬৫ সালে সেখানকার শ্বেতাঙ্গরা রোডেশিয়াকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করলেও যুক্তরাজ্য এটিকে স্বীকৃতি দেয়নি। এরপর ১৯৮০ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ জনগণ দেশটি স্বাধীন করে এবং রবার্ট মুগাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০০৬ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত, লেখক মঈনুস সুলতান যে সময়টাতে বিভিন্ন উপলক্ষে জিম্বাবুয়েতে গিয়েছেন এবং বেশ কিছুদিনের (ছয় সপ্তাহ থেকে দুই মাস) জন্য সেখানে অবস্থান করছেন, তখনো ক্ষমতায় সেই মুগাবে। দীর্ঘ স্বৈরশাসনের কারণে জনজীবন তখন নারকীয় হয়ে উঠেছে। এইডসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ মারা যাচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতির কারণে কয়েক মিলিয়ন জিম ডলারেও পাওয়া যাচ্ছে না একবেলা খাওয়ার মতো খাদ্য। প্রচলিত ভ্রমণকাহিনির মতো না লিখে লেখক ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে ভাগ করে এর বিভিন্ন সময়ের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন বইটিতে। ফলে, পাঠক এখানে যেকোনো অধ্যায় আলাদাভাবেও পাঠ করতে পারেন। বিচিত্র মানুষ ও পরিস্থিতির সরস বর্ণনায় বইটি উপভোগ্য হয়ে উঠেছে। জিম্বাবুয়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের লোকজন, যাদের সঙ্গে লেখককে কাজের প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে, তাদের অনেকেই স্থায়ী চরিত্র হয়ে আসন গেড়ে বসবে পাঠকের মনে। জিম্বাবুয়েতে কৃষ্ণাঙ্গ শাসন জোরদার হলে বহু শ্বেতাঙ্গকে তাদের জায়গাসম্পত্তি থেকে উৎখাত করা হয়। সে রকম একজন শ্বেতাঙ্গ চাষির পোড়ো বাংলোয় লেখকের দেখা হয় বিলাতের মেয়ে, খানিকটা খ্যাপা প্রকৃতির ব্লুসমের সঙ্গে, যে তার ছেলের লেখাপড়া, ছবি আঁকা ও ভরণপোষণের জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছে এবং এক হীরার চোরাকারবারির যৌন লালসা থেকে আত্মরক্ষা করে নিজেরই আঁকা আত্মপ্রতিকৃতি বিক্রি করছে চড়া দামে। সবকিছু ছাপিয়ে ব্লুসমের মাতৃত্ব চিরন্তন হয়ে ওঠে লেখকের বর্ণনায়। জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারে শহরের বুক ক্যাফেটি সমগ্র দক্ষিণ আফ্রিকার শিল্পী-সাহিত্যিকদের জন্য সেন্সরমুক্ত অঞ্চল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে তখন। সেখানকার এক জনপ্রিয় কবি জুলিয়াস চিনগোনোর একটি বই ছাপাখানায় আটক করা হলে সে এক ব্যতিক্রমী বিপ্লবী ঘটনা ঘটায়। বুক ক্যাফেতে তার সেই হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি ছিঁড়ে বিক্রির ঘোষণা দিলে পনেরো মিনিটের মধ্যেই নানা দামে বিক্রি হয়ে যায় বিচ্ছিন্ন সেই সব পৃষ্ঠা। হারারেতে নিযুক্ত নাইজেরিয়ান রাষ্ট্রদূতের কন্যা টোপে আবেলোভিকে পাওয়া যায় প্লাজা হোটেলের পানশালায়। প্রায় সারাক্ষণ ড্রাগসে ডুবে থাকা মেয়েটি স্থানীয় আড্ডাগুলোর অন্যতম মুখরোচক প্রসঙ্গ। মেয়েটি আসলে উচ্ছৃঙ্খলতার আড়ালে তার বেদনাকে ভুলে থাকতে চায়। ১২ বছর বয়স থেকেই সে তার বাবার দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। পরে একসময় টোপে আবেলোভি বুঝতে পারে যে, ওই রাষ্ট্রদূত আসলে তার বাবা নয়। সরকারি নিষেধাজ্ঞা আর স্বৈরশাসনে একটি জাতি কত নির্মমভাবে জর্জরিত হতে পারে, তারই বর্ণনা রয়েছে বইটিতে। নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া, আন্তর্জাতিক সংবাদকর্মীদের আটক, স্বাধীন মত প্রকাশে বাধা দেওয়াসহ নানা অসুবিধার মধ্যে থেকেও সেখানকার প্রগতিশীল মানুষ থেমে থাকেনি। সরকারি বাহিনী ও মুগাবের পার্টির লোকদের চোখ এড়িয়ে অনেকটা গেরিলা কায়দায় সভা-সমাবেশ করেছে তারা। সাধারণের দুর্ভোগের নির্মোহ বয়ানের সঙ্গে তাদের জীবনযাপনের সার্বক্ষণিক লড়াইয়ের প্রবণতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত করে দেখিয়েছেন লেখক। ক্রমাগত অভাবের ফলে কখনো কখনো তারা হয়ে ওঠে দুর্নীতিগ্রস্ত। লেখকের বর্ণনায় জিম্বাবুয়ে বা তার জনসাধারণকে দূরের বলে মনে হয় না। আর্থসামাজিক কারণেই হয়তো বিভিন্ন দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে বেশ মিল দেখা যায় আফ্রিকার এই দেশের। লেখকের ভ্রমণসঙ্গী ক্রিস্টিনা ঘটনাক্রমে সেখানে সরকার-সমর্থক ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। সরকারবিরোধী পার্টির লেখকদের ফান্ডিং করার কারণেই সম্ভবত তার ওপর এই নির্যাতন নেমে আসে। নির্জন পার্কে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া হয় ল্যাপটপ, সেলফোন আর বেশ কিছু ইউরো। এ বইয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো সালানিনি মাজাইরানা। জিম্বাবুয়ের তখনকার সময়কে বোঝার জন্য চরিত্রটি অপরিহার্য। অর্থনৈতিক মন্দার সময়ে এইডস ও ক্যানসারে আক্রান্ত মেয়েটি স্কুলে চাকরির পাশাপাশি শৌখিন কলগার্ল হিসেবে কাজ করে তার পরিবারকে সহায়তা করে। মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়ানো এই চরিত্রের মধ্যে জীবনীশক্তির প্রাচুর্য লক্ষণীয়। ২৩ শতাংশ এইডসে আক্রান্ত জিম্বাবুয়ের লোকদের জীবনযুদ্ধের একটি রূপরেখা আমরা সালানিনির পরিবারের গল্পটির ভেতরেই পেয়ে যাই। বিচিত্র অভিজ্ঞতা আর তখনকার গৃহযুদ্ধের পটভূমিকায় লেখক জিম্বাবুয়ের যে চিত্র আমাদের সামনে তুলে ধরেন, তার ভেতর দিয়ে আফ্রিকার ওই অঞ্চলের মানুষের প্রবণতা, তাদের দুঃখ-কষ্ট ও সংগ্রামের রূপরেখা আমাদের সামনে মূর্ত হয়ে ওঠে।