রোড টু কান্দাহার



BDT262.50
BDT350.00
Save 25%

এ বইয়ে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের কাবুল ও কান্দাহার অঞ্চলের নানা বৃত্তান্ত। এখানে ভাঙা উড়োজাহাজে বাস করে পথশিশুরা। পাগমানের স্থানীয় মানুষজন পাহাড় খঁুড়ে সংগ্রহ করে চুনি-পান্না। আফগান মহিলা কবিরা কবিতার মাইফেল বসান কবি নাদিয়া আনজুমের ইয়াদগারিতে, কবিতায় ভালোবাসার কথা লেখার কারণে যিনি খুন হয়েছেন স্বামীর দৈহিক জুলুমে। ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত পাসতুন নারী রাহেলা কায়মারের গল্প  আপনাকে অভিভূত করবে। অবশেষে পাঠক দেখবেন কী করে গড়ে তুলতে হয় ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে নতুন জীবনের ফল্গুধারা। পাঠক, এই বই আপনাকেও নিয়ে যাবে কান্দাহারের পথে। 

Quantity


  • Security policy (edit with Customer reassurance module) Security policy (edit with Customer reassurance module)
  • Delivery policy (edit with Customer reassurance module) Delivery policy (edit with Customer reassurance module)
  • Return policy (edit with Customer reassurance module) Return policy (edit with Customer reassurance module)

এ বইয়ের শুরুতে লেখক আফগানিস্তানে যুদ্ধবিধ্বস্ত হাওয়াই জাহাজে বাস করা পথশিশুদের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। পাঠককে নিয়ে যান স্থানীয় মানুষজন কীভাবে পাহাড় খঁুড়ে চুনি-পান্না সংগ্রহ করে তা দেখাতে।  বাদশাহ আমানুল্লার আমলের একটি ভগ্ন প্রাসাদে তিনি দেখা করিয়ে দেন জনা কয়েক মহিলা কবির সঙ্গে—যাঁরা কবিতার মাইফেল বসিয়েছেন কবি নাদিয়া আনজুমের ইয়াদগারিতে, কবিতায় যিনি নারীশোভন ভালোবাসার কথা প্রকাশ করার অপরাধে খুন হয়েছেন স্বামীর দৈহিক জুলুমে। সংগোপনে একটি ট্রাকের ড্রাইভিং সিটের পেছনের গুপ্তকুঠুরিতে শুয়ে তিনি রওনা হন কান্দাহারের পথে। আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে স্পিন বলডাকের বাজারে, সেখানে যাত্রাবিরতি শেষে তিনি ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত পাসতুন নারী রাহেলা কায়মারের চিঠি নিয়ে পৌঁছান শেখ সরখ গ্রামে। অনেক বছর আগে রাহেলা বিদেশি প্রেমিকের সঙ্গে দেশত্যাগ করে, পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। এই নারীর পিতৃব্য পাসতুন সরদার মোনাব্বর উল্লা কায়মারের সঙ্গে মোলাকাত করার জন্য লেখকের সঙ্গে পাঠকও দারুণ উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করবেন। কাবুলের ক্যারাভান সরাইয়ের পর মঈনুস সুলতান আবার লিখলেন আফগানিস্তান নিয়ে। পাঠক, এই বই আপনাকে নিয়ে যাবে কান্দাহারের পথে। 

Reviews

সুলতানের পাত্রপাত্রীরা বিষাদ-আক্রান্ত কেন?

| 28/10/2019

মঈনুস সুলতানের লেখার জগতে কী থাকে? তাঁর ভ্রমণলেখার পাত্রপাত্রীদের অধিকাংশই কেন বিষাদ-আক্রান্ত? দুঃখভারাতুর গল্প বলে সব সময় কি বেদনা জাগাতে ভালোবাসেন সুলতান?—প্রশ্নগুলো আচম্বিতে বেরিয়ে গেল বটে। কিন্তু পরে মনে হলো, এসব প্রশ্ন উত্থাপনের শক্ত একটি পাটাতন আছে এবং পাটাতনটি নিজের লেখায় হরহামেশা হাজির রাখেন সুলতান। এই লেখকের সাম্প্রতিকতম ভ্রমণ-পুস্তক রোড টু কান্দাহার আফগান মানুষের বেদনার্ত বাস্তব জগৎ উন্মোচন করে ওই পাটাতনকে আরেক দফা পোক্ত করেছে। কারণ, বইটিতে যেসব ভ্রমণগল্প স্থান পেয়েছে, সেগুলোর পাত্রপাত্রী—পিতৃ-মাতৃহীন বালক শের খান, নাদিয়া আনজুমান, কাকা জানুন, গোলাম ইসহাক বাবরি, ওস্তাদ ওয়ারিদ আফ্রিদি অথবা রাহেলা কায়মার প্রমুখ—সবারই আছে নিজস্ব দুঃখের পৃথিবী। হ্যাঁ, সেই দুঃখের পেছনে তালেবান শাসনকালীন দুর্দশা, মার্কিন বাহিনীর হামলা-পাল্টাহামলা আর তালেবান-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের ভূমিকা পাওয়া যাবে অবশ্যই। তদুপরি দেখা মিলবে এমন এক অদ্ভুতুড়ে সামাজিক-রাজনৈতিক বাস্তবতার, যেখানে পদে পদে পশ্চাৎপদতা, কুসংস্কার, ভয় ও সামাজিক নানাবিধ কানুন জড়িয়ে আছে আষ্টেপৃষ্ঠে। আফগানিস্তান সুলতানের জন্য নতুন ব্যাপার নয়। কর্মসূত্রে প্রথমবার ওই দেশে গিয়ে লিখেছিলেন কাবুলের ক্যারাভান সরাই (২০১২)। এরপর ২০০৯ সালে দ্বিতীয়বার লেখক পা রাখেন পাহাড়বেষ্টিত সেই দেশে। তখনো দেশটি কাটিয়ে উঠতে পারেনি দীর্ঘ যুদ্ধের তাণ্ডব। তালেবান শাসনের অবসান ঘটলেও মানুষের মনে ওই শাসনের ভয়াল স্মৃতি সে সময়েও বেশ দগদগে। তালেবান তালেবদের চোরাগোপ্তা হামলা তখনো অব্যাহত, হামলা জারি রেখেছে বিজয়ী মার্কিন বাহিনীও। এসব বাস্তবতায় আফগানিস্তানে একদিকে শুরু হয়েছে নতুন পথে যাত্রা, অন্যদিকে মানুষের ঘরে ঘরে বেদনা আর ভয়ের অনুরণন—এই দুইয়েরই ভাষ্য রয়েছে রোড টু কান্দাহার-এর কুড়িটি পরিচ্ছেদে। বইয়ের মধ্যে ভেসে উঠেছে সাধারণ মানুষ ও সমাজের অসাধারণ সব ছবি। মানবিক-অমানবিক সম্পর্ক এবং অজস্র মানুষের গল্প আছে বইজুড়ে। এর মধ্য থেকে দুটিমাত্র কাহিনি—নারী কবি নাদিয়া আনজুমান আর পাশতুন মেয়ে রাহেলা কায়মারের গল্পের খানিকটা বলতে বলতেই বিস্তারিত করা যাক আলোচনা। গুলফামা গোত্রের মেয়ে নাদিয়া কবিতা লিখতেন। তালেবান শাসনামলে যখন মেয়েদের কবিতা লেখা ‘হারাম’, সেই অবরুদ্ধ সময়ে একদল নারীকে নিয়ে সূচিকর্মের আড়ালে তিনি চালিয়েছেন কাব্যচর্চা। ‘কসর দারুল আমান’ শিরোনামের রচনায় আমরা পড়ি নাদিয়ার কাহিনি। তবে লেখকের লেখা এতই জ্যান্ত যে কেবল পাঠ নয়, লেখকের সঙ্গী হয়ে আমরাও ঘুরে বেড়াই বাদশাহ আমানুল্লার প্রাসাদে, নারী কবিদের কাব্য আসরে। এই আসর দর্শন করিয়ে সুলতান আমাদের নিয়ে যান ইতিহাসের গহিনে। শোনান দারি ভাষার প্রথম নারী কবি রাবেয়া বলখির কথা। যথেষ্ট ঘোরাঘুরি হয় কঠোরতায় ঘেরা আফগান সমাজের অভ্যন্তরে। সেখানে পেয়ে যাই কাকা জানুন নামে এক চিত্রশিল্পীকে। তাঁর জীবনের কাহিনিও যথারীতি করুণ। পুস্তক আলোচনার এই সীমিত পরিসরে লেখকের দেখা আফগানবাসী সব চরিত্রের গল্প বলা দুঃসাধ্য বটে। আমরা বরং নাদিয়ার গল্পটিই শেষ করি। তাঁর একটি কবিতায় ছিল শরীরী ভালোবাসার প্রকাশ। এ জন্য নাদিয়ার স্বামী দৈহিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে তাঁকে। তখন মেয়েটির বয়স মাত্র পঁচিশ। তবে পুলিশি প্রতিবেদনে ওই হত্যাকে দেখানো হয়েছিল ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে। আদতে বইয়ের প্রতিটি লেখাতেই আফগান মানুষজন, তাদের পারিপার্শ্বিক অবস্থা, সামাজিক পরিমণ্ডল—সবকিছুর বর্ণনা আছে বিশদভাবে। সুলতানের অন্যান্য ভ্রমণগ্রন্থেও আছে একই সুষমা। তবে আলোচ্য বইটির ভিন্নতা এই অর্থে, আগে যেখানে সচরাচর একটি পরিচ্ছেদের ভেতরেই একটি গল্প শেষ করতেন লেখক, তার বদলে এখানে এবার কয়েকটি পৃথক পরিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে পরিণতি পেয়েছে গল্পের উদ্দিষ্ট কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো। যেমন রাহেলা কায়মারের গল্প তিনি বলেছেন কয়েকটি পরিচ্ছেদে। এতে লাভের লাভ যা হয়েছে, লেখকের পাত্রপাত্রীরা (রাহেলা কায়মার বা ইসহাক বাবরি) দীর্ঘ পরিসর পাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে পরিস্ফুটিত হওয়ার অবকাশ পেয়েছেন বেশি। এ লেখার ইতি টানব রাহেলা কায়মারের বেদনার্ত গল্পটি বলে। ক্যানসারে আক্রান্ত পাশতুন রমণী রাহেলা একদা ছিলেন লেখকের সহকর্মী। আমেরিকান এক যুবককে ভালোবেসে তাঁর হাত ধরে দেশ ছেড়েছিলেন। হয়েছিলেন গোত্র ও পরিবারচ্যুত। লেখককে একসময় তিনি অনুরোধ করেন, কান্দাহার প্রদেশের বাসিন্দা তাঁর চাচাকে তাঁর একটি চিঠি পৌঁছে দিতে। এরপর রাহেলার চিঠি নিয়ে সুলতান ছুটলেন কান্দাহার, আরও সুনির্দিষ্টভাবে বললে শের সুরখ নামে এক গণ্ডগ্রামে। এই কাহিনি বলতে বলতে এল অনেক কিছু—ইতিহাসের পাতা থেকে মৌর্য সম্রাট অশোক, গ্রিক নৃপতি আলেক্সান্ডার, মোগল সম্রাট জহির উদ্দিন বাবর, আহমদ শাহ দুররানি যেমন এসেছেন, একইভাবে এসেছে বর্তমানও—দখলদার মার্কিন ফৌজের সৈন্যরা তালেবান ধরতে গিয়ে আর্টিলারির গোলায় শত শত নিরস্ত্র মানুষের ঘরবাড়ি যে জ্বালিয়ে দিয়েছে, মানুষ হয়েছে বাস্তুহারা—রসালো ভাষায় সেসব গল্পও মঈনুস সুলতান বলেছেন পরম মমতায়। তাঁর লেখার কৌশলটি এমন, এক ভ্রমণগল্পেই থাকে এন্তার গল্প। আর প্রতিটি গল্প যখন শেষ হয়, এর পাত্রপাত্রীর জন্য জেগে ওঠে মায়া। আর তাদের মতো বিষাদ-আক্রান্ত হয়ে পড়ি আমরাও।