রঙ্গশালা - হরিশংকর জলদাস



BDT320.00
BDT400.00
Save 20%

রঙ্গশালা উপন্যাসের বক্তা একজন ভিক্ষুক। শ্রোতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। স্থান রমনা পার্ক। এ কাহিনি এমন, পাঠক অধ্যাপকের পাশে বসতে বাধ্য হবেন ভিক্ষুকের অভিজ্ঞতার বয়ান শুনতে। 

Quantity


  • Security policy (edit with Customer reassurance module) Security policy (edit with Customer reassurance module)
  • Delivery policy (edit with Customer reassurance module) Delivery policy (edit with Customer reassurance module)
  • Return policy (edit with Customer reassurance module) Return policy (edit with Customer reassurance module)

বাঙালির সমাজ-রাজনীতি-ধর্মবোধ-দর্শন-সাহিত্য-জোচ্চুরি-ওপরচালাকি—এসবের রূপময় চিত্র আছে রঙ্গশালা উপন্যাসে। আর আছে আকুল করা রহস্যময় এক উপাখ্যান। মানুষের কীর্তি-কুকীর্তি, ভাবনা-যাতনা, কৈশোর-তারুণ্য-বার্ধক্য, জন্ম-বিয়ে-মৃত্যু, সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা সবই একাকার হয়ে গেছে এই উপন্যাসে। হরিশংকর জলদাসের নতুন ভাষাভঙ্গিরও প্রমাণ পাবেন পাঠক।উপন্যাসের কাহিনি-কথক একজন ভিক্ষুক। শ্রোতা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক। বলার স্থান রমনা পার্ক। রঙ্গশালার কাহিনি এমন, পাঠক অধ্যাপকের পাশে বসতে বাধ্য হবেন ভিক্ষুকের মুখে গল্প শুনতে। রঙ্গশালায় হরিশংকর জলদাস বিস্তৃত বাঙালি-জীবন রচনায় মনোযোগী হয়েছেন। 

Reviews

জীবনের গভীর আখ্যান

| 12/11/2019

হরিশংকর জলদাসের রঙ্গশালা উপন্যাসের কাহিনির যে বিস্তৃতি, তার উৎসমূল বইয়ের শেষ অধ্যায় ‘কুহেলিকা’। গল্পের নায়ক উপন্যাসের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সমাজ, জগৎ ও তার পরিপার্শ্ব নিয়ে দার্শনিকতা করে, গভীর সুরে কথা বলে জীবনের নানা পর্ব নিয়ে, এর মূলে আসলে তার নিজের জীবনের তিক্ত বিয়োগান্ত একটি ঘটনা। রঙ্গশালার নায়ককে শুরুতে আমরা পাই ঢাকায়। সে থাকে রমনা পার্কের শিরীষতলায়। ভিক্ষুকের বেশ। কিন্তু সেই ভিক্ষুকই যখন তার শ্রোতা এক অধ্যাপককে ‘জন্ম’, ‘অন্ন’, ‘বাসস্থান’, ‘ক্রোধ’, ‘লোভ’, ‘মোহ’, ‘মদ’, ‘মাৎসর্য’, ‘শিক্ষা’, ‘চিকিৎসা’ ও ‘মৃত্যু’ সম্পর্কে কথা বলে, একটু অবাকই লাগে তখন। অবাক এ কারণে যে, সাধারণ এক ভিক্ষুক জীবনের মূল দিকগুলো সম্পর্কে এত কথা জানল কী করে? এই প্রশ্নের জবাবে বলা যায়, দর্শন ও দার্শনিকতা তো কেবল শিক্ষিত মানুষের একচেটিয়া নয়। জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত যে কাউকে দার্শনিক করে তুলতে পারে। খানিক বাদে আমরা যখন উপন্যাসটির শেষ অধ্যায় ‘কুহেলিকা’ পাঠ করছি, আমাদের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে সবকিছু—রঙ্গশালার নায়ক আসলে ধারণ করে আছে ছদ্মবেশ। তার জীবনে একসময় আনন্দ ছিল, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাও পেয়েছিল, ব্যক্তিগত ছিল পঠনপাঠনও, কিন্তু আকস্মিক এক ট্র্যাজিক ঘটনা আমূল বদলে দেয় তার জীবন।<br /> নায়কের বাবা ছিল মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা। কিছু কৃষিজমির মালিক। বাবা চেয়েছিল তার ছেলে লেখাপড়া শিখুক। তবে বিএ পড়ার সময় বাবা মারা যাওয়ার পর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায় নায়কের। ঘরে বৃদ্ধ মা। মায়ের অনুরোধে লাবণ্য নামের একজনকে বিয়ে করে সে। সময়ের ব্যবধানে একটি মেয়ে হয় তাদের। আর নাতনির জন্মের অল্পকাল পরই সাপের কামড়ে মারা যায় নায়কের মা। লাবণ্যকে পেয়ে বসে ভয়। এদিকে গ্রামের প্রভাবশালী মিয়াজি পরিবারের অন্যতম হর্তাকর্তা শফিক মিয়াজির অধীনে তখন চাকরি করছে নায়ক। আগেই বলেছি, নায়কের মাকে সাপে কামড়ানোর পর ভীষণ ভয় পায় তার স্ত্রী লাবণ্য। ফলে নিজের বাড়ি ছেড়ে নায়ক সস্ত্রীক শফিক মিয়াজির বাড়ির চত্বরে আরেকটি বাড়িতে এসে ওঠে। শফিক মিয়াজির ছোট ছেলে শহীদুল দুশ্চরিত্রের একশেষ। উপন্যাসের নায়ক তার সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ঘটনার যোগে। তাই শহীদুলও খুঁজতে থাকে সুযোগ। একদিন শফিক মিয়াজির অনুরোধে দূরের গাঁয়ে বিয়ে হওয়া তার মেয়ের বাড়িতে লোকজনসহ কোরবানির গরু পৌঁছে দিতে যায় নায়ক। রাতে আর ফেরা হয় না। এই সুযোগে শহীদুল তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে চড়াও হয় লাবণ্যের ওপর। সেই দুঃখে কুহেলিকা নদীর ওপরের লোহার ব্রিজ থেকে মেয়েসহ ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে লাবণ্য। শোকে দিশেহারা নায়ক সবকিছু শোনে তাদের বয়স্ক কাজের মেয়ের মারফত। খুঁজে পায় তার স্ত্রী আর মেয়ের লাশ। শান্ত-সমাহিত হৃদয়ে কবর দেয় তাদের। ঘটনার ঘাতে সে হয়ে যায় একেবারে ভিন্ন এক মানুষ। তারপর? সুযোগ বুঝে নায়ক খুন করে শহীদুলকে। নিষ্ঠুরভাবেই। এরপর শুরু হয় তার পলাতক জীবন। চলে আসে ঢাকায়, রমনা পার্কে। ভিক্ষুকের বেশ নেয় সে। উপন্যাসের অন্তিমে নায়ক তার কথার একান্ত শ্রোতা অধ্যাপককে বলছে, ‘আমার অনুরোধের সূত্র ধরে আপনি যদি আমাকে ধরিয়ে দেন কী করব? ‘কিছুই করব না স্যার। বেঁচে থাকার জন্য আমার ভেতর যে দুর্নিবার লোভটি ছিল, তা এখন মরে গেছে। শোধ নেওয়ার যা, তা তো অনেক আগেই নিয়ে ফেলেছি। এখন মরণে ভয় নেই আমার। বাঁচা আর মরা এখন আমার কাছে সমান।’ রঙ্গশালার শেষে আমরা অনুধাবন করি, হৃদয়ের গভীর ক্ষত, দুঃখ আর বেদনাই জীবনের সেই অতলকে স্পর্শ করে। আর এই স্পর্শই হয়তো মানুষকে করে তোলে দার্শনিক।