অনাবিল মুখচ্ছবি



BDT280.00
BDT350.00
Save 20%

এ বই বিচিত্র মানুষের গল্প। ফারুক চৌধুরী তাঁর বর্ণাঢ্য কূটনৈতিক ও সামাজিক জীবনে সংস্পর্শে এসেছেন বিচিত্র মানুষের। সেসব বিশ্বনন্দিত, খ্যাতিমান বা নিতান্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে আছেন রাষ্ট্রনেতা, ক্রীড়া-কিংবদন্তি, বিজ্ঞানী, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, এমনকি গৃহপরিচারকও। বাইরের খোলস ভেঙে লেখক বের করে এনেছেন তাঁদের ভেতরের মানুষটিকে। মানুষ উন্মোচনের এই পালায় নিজেকেও তিনি মেলে ধরেছেন অকপটে। 

Quantity


  • Security policy (edit with Customer reassurance module) Security policy (edit with Customer reassurance module)
  • Delivery policy (edit with Customer reassurance module) Delivery policy (edit with Customer reassurance module)
  • Return policy (edit with Customer reassurance module) Return policy (edit with Customer reassurance module)

বর্ণাঢ্য এক জীবন পাড়ি দিয়ে এসেছেন ফারুক চৌধুরী। দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সামাজিক জীবনে পেয়েছেন বিচিত্র মানুষের নিবিড় সান্নিধ্য। তাঁদের কেউ খ্যাতিমান, কেউ এই বিপুল মানবসমাজে নিতান্তই হারিয়ে যাওয়ার মতো কোনো চরিত্র। ফারুক চৌধুরীর এই অভিজ্ঞতার মিছিলে আছেন রাষ্ট্রনায়ক, বিজ্ঞানী, ক্রীড়া-কিংবদন্তি, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, গৃহপরিচারক। কেউ বাংলাদেশের নন্দিত মানুষ, কেউ মহিমাময় বিশ্বনেতা, কেউ বা দেশকাল-ছাপানো পৃথিবীজোড়া মানুষের ভালোবাসার পাত্র। এ বইয়ের লেখাগুলোয় ফারুক চৌধুরী তাঁদের সবার বাইরের আবরণ ছিন্ন করে বুঝতে চেয়েছেন ভেতরের মানুষটিকে। তাঁদের অন্তরতম সত্তার আবিষ্কার যেন লেখকের জন্যও এক আত্ম-উন্মোচন। কারণ এঁদের সবার রঙে বর্ণময় হয়ে উঠেছে তাঁর নিজেরও জীবন। এই আত্ম-উন্মোচনের পালায় তাই নিজেকেও তিনি বাদ দেননি। একগুচ্ছ লেখায় নিজেকেও মেলে ধরেছেন অকপটে। এ বই বিচিত্র মানুষের গল্প। মানুষের বৈচিত্রে্যর গল্প। বিচিত্র মানুষের মধ্য দিয়ে বিশ্বমানবিকতার গল্প। 

Reviews

স্মৃতিসুধা ও মানবিক আখ্যান

| 12/11/2019

অনাবিল মুখচ্ছবিঅকপট স্মৃতিচারণামূলক লেখা—বিশেষত ব্যক্তি বা ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে—সামাজিক ইতিহাসের কোনো না কোনো কালপর্বের এক অবিচ্ছেদ্য দলিল হয়ে উঠতে পারে। ফারুক চৌধুরীর অনাবিল মুখচ্ছবি তেমনই গোত্রের বই, যার পাঠ—বড় অংশের পাঠ, আমাদের বারবার সে কথাই স্মরণ করিয়ে দেবে। পেশাদার লেখক ছিলেন না ফারুক চৌধুরী। পেশায় আদ্যোপান্ত কূটনীতিক এই মানুষটি যখন বলেন নব্বইয়ের দশকের প্রারম্ভ থেকে তাঁর লেখালেখি জীবনের শুরু, বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয় না। কেননা, এ বইয়ের পাশাপাশি তাঁর অন্যান্য বইয়ে ভাষাভঙ্গি, তা রীতিমতো ঈর্ষা-জাগানিয়া। চারটি অধ্যায়ে বিভক্ত অনাবিল মুখচ্ছবি। ‘অন্তরঙ্গ মুখ’, ‘উজ্জ্বল মানুষ’, ‘আলাপন’ ও ‘প্রাণের বেদনা প্রাণের আবেগ’। প্রথম দুই অধ্যায়ে লেখক এমন সব ব্যক্তি বা ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে স্মৃতিচারণা করেছেন, যাঁদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল অন্তরঙ্গ, কেউ-বা ছিলেন বন্ধুস্থানীয়, কেউ-বা বয়োজ্যেষ্ঠ আর কেউ কেউ ছিলেন তাঁর অভিভাবকতুল্য। নানা পেশার মানুষ তাঁরা। সমাজের শীর্ষচূড় ব্যক্তিত্ব কেউ কেউ। এঁদের মধ্যে দেশের বাইরেরও আছেন পাঁচজন, যাঁদের কেউ বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রকার, রাষ্ট্রনায়ক, আছেন বিশ্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদও। উল্লেখ করা ভালো, প্রথম দুটি অধ্যায়ের লেখাগুলো তিনি রচনা করেছিলেন আলোচ্য প্রত্যেকের প্রয়াণের অব্যবহিত পরপর। ফলে প্রতিটি লেখায় যেমন সুখস্মৃতি আছে, রস ও রসিকতা আছে, জীবনের গূঢ় আলাপন আছে, তেমনি রয়েছে প্রয়াতজনের বেদনায় বিধূর হওয়ার মর্মস্পর্শী আবেগ। যেমন শাহ এ এস এম কিবরিয়ার কৃতী ও কৃতিত্ব সম্পর্কে লেখার অন্তিমে লেখক যখন বলেন, ‘...আজ লিখতে বসে একটা কথা বারবার আমার কানে বাজছে—আপনি বলেছিলেন, “নিরাশ হবেন না। দেশে সুদিন আসবেই। হয়তো আপনি, আমি তখন রইব না।” আজ ফারুক চৌধুরী (৪ জানুয়ারি ১৯৩৪—১৭ মে ২০১৭)। ছবি: প্রথম আলোআপনি নেই, একদিন আমিও থাকব না।’—কথাগুলোর পাঠ শেষে মন আপনাআপনি ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। একইভাবে যখন তিনি শিক্ষাবিদ ফজলুল হালিম চৌধুরী, সৈয়দ ইশতিয়াক আহমদ, আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ, এম মুজিবুল হক, ফয়েজ আহমেদ, সাদেক খান, স্যামসন এইচ চৌধুরী, কায়সার রশীদ, জিয়াউল হক টুলু, হুমায়ুন কবীর, মফিউদ্দৌলা, আবুল কাসেম এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে সত্যজিৎ রায়, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, ইয়াসির আরাফাত, মোহাম্মদ মাহাথির ও মোহাম্মদ আলী সম্পর্কে জানান, তাঁদের প্রকৃত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি সম্পর্কে বিবরণ পেশ করেন—পড়তে গিয়ে মন আলোকিত হয়ে ওঠে মন। মনে হয় না, প্রয়াত জনদের সম্পর্কে লিখেছেন ফারুক চৌধুরী, যেন তাঁর আলোচ্য মানুষগুলো আমাদের সামনে এখনো দিব্য দাঁড়িয়ে। ‘আলাপন’ অধ্যায়ের সাক্ষাৎকারগুলো অপার আগ্রহসঞ্চারী। পড়তে শুরু করলে সবগুলো লেখা এক নিশ্বাসে পাঠ না করে পারা যায় না। ‘প্রাণের বেদনা প্রাণের আবেগ’ অধ্যায়ে লেখা আছে আটটি। এর মধ্যে ‘জন্মস্থান সফর’ ও ‘সিলেট আমার সিলেট’ শিরোনামের লেখা দুটি লেখকের স্মৃতিমেদুরতার স্পর্শে এমন সজীব, পাঠককে তা মুহূর্তেই স্পর্শ করে। এ অধ্যায়ের আরও যে দুই লেখার কথা না বললেই নয় তার একটি ‘বিদেশে বাসার কাজের লোকগুলো’ এবং অন্যটি ‘গুলশান হত্যাকাণ্ড: স্নেহ ও ভালোবাসার একটি অর্ঘ্য’। ফারুক চৌধুরী কতটা সংবেদনশীল মানুষ, তার পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর ‘বিদেশে বাসার কাজের লোকগুলো’ পড়লে। যাদের কথা কেউ সাধারণত স্মরণ করেন না, তাদের নিয়ে তিনি লিখেছেন মর্মস্পর্শী লেখা। ‘গুলশান হত্যাকাণ্ড: স্নেহ ও ভালোবাসার একটি অর্ঘ্য’ নিবন্ধে ফারুক চৌধুরী সেদিনের ট্র্যাজিক ঘটনার বিবরণ পেশ করার পর লিখলেন, ‘ফারাজ তার জীবন রক্ষায় দুই বান্ধবীর সঙ্গ ত্যাগ করল না। আত্মাহুতি দিল। ফারাজের বীরোচিত এই মৃত্যুর কাহিনির পরতে পরতে আছে আমাদের গর্বের উপাদান। ফারাজের মৃত্যুতে এক ঝলকের জন্য হলেও গভীর বেদনায় আমি দেখি প্রকৃত বাংলার মুখ।’ লেখাটি পড়তে পড়তে আনমনে পাঠকদের কারও কারও নিশ্চয় মনে পড়বে লেখক ফারুক চৌধুরীর অনাবিল মুখখানি। সম্প্রতি তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তবে তিনি আছেন, অনাবিল মুখচ্ছবির মানবিক আখ্যানের ভেতর প্রবলভাবে জীবিত আছেন তিনি।