নুনকি একটি তারার নাম : নাবিকের সমুদ্রযাত্রা



BDT337.50
BDT450.00
Save 25%

নাবিক-জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে স্মৃতিকথাধর্মী বই বাংলা ভাষায় বেশি লেখা হয়নি। এ বইয়ে লেখক তাঁর নাবিক-জীবনের অভিজ্ঞতা বেশ সহজ, সরস ও মনোগ্রাহী ভাষায় তুলে ধরেছেন। বর্ণনায়ও আছে চমৎকারিত্ব ও কৌতুকবোধের পরিচয়। বইটিতে পাঠক একই সঙ্গে উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনি ও স্মৃতিকথার স্বাদ পাবেন। নাবিক-জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে সুন্দর ও সুখপাঠ্য একটি বই নুনকি একটি তারার নাম। 

Quantity


  • Security policy (edit with Customer reassurance module) Security policy (edit with Customer reassurance module)
  • Delivery policy (edit with Customer reassurance module) Delivery policy (edit with Customer reassurance module)
  • Return policy (edit with Customer reassurance module) Return policy (edit with Customer reassurance module)

ক্যাপ্টেন শামস উজ জামান একজন নাবিক। ক্যাডেট কলেজ, মেরিন একাডেমি চট্টগ্রাম ও আয়ারল্যান্ডে পড়াশোনা করেন। এ বইয়ে তিনি শিক্ষানবিশ নাবিক থেকে শুরু করে বড় জাহাজের ক্যাপ্টেন হয়ে সমুদ্র পরিভ্রমণের বিবরণ দিয়েছেন। তাতে উপন্যাসের একটা ভাব এসেছে। কাহিনির শুরু কলকাতা বন্দরে। তারপর ব্যাংকক-আবিদজান, আবিদজান-ওডেনস, ওডেনস-কলম্বো এবং কলম্বো-কলকাতা—ক্যাপ্টেন হিসেবে লেখকের মোট চারটি ভয়েজ বা সমুদ্রযাত্রার বর্ণনা আছে। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা, নাবিকদের কাজকর্ম, পার্টি, হই-হুল্লোড়, আবহাওয়া, ঝড়ঝঞ্ঝার কথা যেমন আছে, তেমনি আছে বিভিন্ন বন্দর ও জনপদের কৌতূহলোদ্দীপক বিবরণ।

আবুজা নামে লেখকের এক দুর্বিনীত অথচ কোমল বন্ধু-নাবিকের প্রেম হয় তার জাহাজের ক্যাপ্টেন মালহোত্রার কন্যা, চণ্ডীগড়ের মেয়ে নীলাঞ্জনার সঙ্গে। তারপর পালিয়ে ঢাকায় বিয়ে, সন্তানের জন্ম। এ দম্পতি শেষে অস্ট্রেলিয়ায় বাস করতে থাকে। পরে আবুজা মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেখানে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নীলাঞ্জনা কন্যাকে নিয়ে ভারতে চলে যায়। এ করুণ পরিণতির গল্পটা মূল বৃত্তান্তের পাশে জায়গা পেয়েছে। এটি পাঠককে আকর্ষণ করবে। 

Reviews

নাবিকের সমুদ্রযাত্রার সাতকাহন

| 12/11/2019

শীতের দেশে বরফাবৃত জাহাজের ডেকক্যাপ্টেন শামস উজ জামানের নুনকি একটি তারার নাম: নাবিকের সমুদ্রযাত্রা এমন একধরনের বই, এককথায় যার পাঠ নতুন এক অভিজ্ঞতার জারকে মনকে জারিত করে। বাংলা সাহিত্যের এত যে বিশাল ও বিস্তৃত পরিসর এবং তার যে বহুবর্ণিলতা, সেই প্রেক্ষাপটেও এ বই নতুন আবিষ্কৃত এক নক্ষত্রের মতোই জ্বলজ্বলে। সত্যি বলতে কি, নাবিকদের জীবন নিয়ে বাংলা সাহিত্যে বইয়ের সংখ্যা আঙুলে গোনা। সেদিক দিয়ে বইটির গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না। ক্যাপ্টেন শামস উজ জামানের বইটির বড় বৈশিষ্ট্য, তিনি শুরু করেছেন শিক্ষানবিশির পুরোদস্তুর বিবরণ তুলে ধরার ভেতর দিয়ে। দেশ ও বিদেশের সেই শিক্ষানবিশির কালটি সহজ-সরল ছিল না, ছিল কঠোর শ্রমসাপেক্ষ। বইটির একটি সংক্ষিপ্তসার উঠে এসেছে লেখকের দীর্ঘ ও সুলিখিত ভূমিকা মারফত। সেই ভূমিকার একেবারে শুরুতেই তিনি আমাদের জানাচ্ছেন, ‘লিখতে গিয়ে দেখি খুব লম্বা হয়ে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আমার সমুদ্রচারী জীবনের গল্পগুলোকে তিন পর্বে ভাগ করে লিখেছি। প্রথম পর্বে আছে জাহাজে আমার শিক্ষানবিশ জীবনের কথা। ক্যাপ্টেন হওয়ার জন্য যুক্তরাজ্য, হংকং ও আয়ারল্যান্ডে লেখাপড়ার সময়টা নিয়ে লিখেছি দ্বিতীয় পর্ব। তৃতীয় বা শেষ পর্বে আমি ১৮০ দিনের সমুদ্রভ্রমণের বর্ণনা দিয়েছি। এ পর্ব শেষ হয়েছে আমার বন্ধু আবুজার জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে। প্রসঙ্গক্রমে কোথাও কোথাও আমার বাল্য ও কৈশোরের দু-একটি ঘটনারও বর্ণনা দিয়েছি। পাঠক এ বইয়ে সমুদ্র, জাহাজ ও সমুদ্রচারী মেরিনারদের জীবনের একটি ধারণা পাবেন।’ নুনকি একটি তারার নাম: নাবিকের সমুদ্রযাত্রা বইটির ঘটনার শুরু কলকাতা বন্দর থেকে। তারপর লেখক এবং তাঁর ঊর্ধ্বতন ও নিম্নতম স্তরের কর্মীরা জাহাজে চেপে যাচ্ছেন পৃথিবীর কত সব বন্দরে! যাচ্ছেন, সমুদ্রপথেই, ব্যাংকক-আবিদজান, আবিদজান-ওডেনস, ওডেনস-কলম্বো এবং কলম্বো থেকে কলকাতা। মোটা দাগে চারটি ভয়েজ বা সমুদ্রযাত্রা। এই সব যাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ নাবিকদের বাঁধা কঠোর কাজকর্ম, পার্টি, হই-হুল্লোড়ের পাশাপাশি আছে খারাপ আবহাওয়া এবং ঝড়ঝঞ্ঝার মুখে সাহসের পরিচয় দেওয়ার কথা। আছে বিভিন্ন বন্দর ও সমুদ্রসংলগ্ন জনপদের জীবনযাত্রার বিবরণও। মনে রাখা দরকার, এ বইয়ের লেখক পেশাদার লেখকভুক্ত কেউ নন। কিন্তু তাঁর রচনাশৈলী অনেক ক্ষেত্রেই পেশাদার লেখককেও হার মানাবে। ক্যাপ্টেন শামসের দেখার চোখ ও দেখা ঘটনা তুলে ধরার পটুতা রীতিমতো ঈর্ষা-জাগানিয়া। লেখক জানাচ্ছেন, ‘একবার ঝড়ে পড়ে আমার চোখে ভীতিচিহ্ন দেখে ক্যাপ্টেন রিচমন্ড বলেছিলেন, “ভয়ের কিছু নেই। জাহানের স্টিয়ারিং ও ক্যাপ্টেন ঠিক থাকলে জাহাজের কিছু হয় না।” ‘আরব সাগরে একবার জাহাজের মাপ এপাশ থেকে ওপাশে সরে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল। তাতে জাহাজ ডুবে যেতে বসেছিল। জাহাজ ডুবে গেলে সিএনএন, বিবিসিতে খবর বের হতো। কিন্তু সে যাত্রা রক্ষা পেয়েছি। কী জানি ক্যাপ্টেন রিচমন্ড ঠিক কথা বলেছিলেন কি না অথবা তাঁর কথায় সত্যি সত্যি কোনো মেসেজ ছিল কি না।’ লেখকের বর্ণনা থেকে এ জাতীয় ঘটনার কথা পড়লে মনে হয়, পাঠক হিসেবে আমি নিজেও বুঝি তাঁদের সঙ্গী-সহচর। এমনই তাঁর লেখনী-শক্তি! এ রকম অসংখ্য ঘটনার সমাহার আলোচ্য বইখানি। কোথাও পড়তে গিয়ে একঘেয়েমির শিকার হতে হয় না। শেষতক, সেই মন ভারাক্রান্ত করা এপিসোডে চলে আসি আমরা। পড়ি আবুজার জাহাজেই প্রেম-ভালোবাসা ও পরিণয়ের কথা। তার সন্তানের জনক হওয়ার কথা। তার বিবাহবিচ্ছেদের কথা। অন্তিমে আবুজার মানসিক ভারসাম্য হারানোর বিবরণ পাঠ করতে গিয়ে কখন যে চোখ ভিজে যায়, বুঝতে পারি না! প্রথম সংস্করণ শেষ হওয়ার পর সম্প্রতি বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ বাজারে এসেছে।