রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা



BDT320.00
BDT400.00
Save 20%

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা-পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য জাতীয় রক্ষীবাহিনী নামে নতুন একটি বাহিনী গঠন করা হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর রক্ষীবাহিনীকে বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে আত্তীকরণ করা হয়। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে আলোচনা-সমালোচনার একটি কেন্দ্রবিন্দু ছিল রক্ষীবাহিনী। সে আলোচনা-সমালোচনা এখনো শেষ হয়নি। লেখক আনোয়ার উল আলম গঠন-প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আত্তীকরণ পর্যন্ত রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। এ বইয়ে তাঁর ভাষ্যে উন্মোচিত হয়েছে রক্ষীবাহিনী এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নানা অজানা কথা। 

Quantity


  • Security policy (edit with Customer reassurance module) Security policy (edit with Customer reassurance module)
  • Delivery policy (edit with Customer reassurance module) Delivery policy (edit with Customer reassurance module)
  • Return policy (edit with Customer reassurance module) Return policy (edit with Customer reassurance module)

সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে সরকার মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠন করেছিল জাতীয় রক্ষীবাহিনী। এ বাহিনীর কাজ ছিল যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করা। রক্ষীবাহিনী এসব জাতীয় দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু এর কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। এসবের কতটা সত্য আর কতটা নিছক প্রচারণা? গ্রন্েথর লেখক আনোয়ার উল আলম গঠন-প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত এই বাহিনীর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। রক্ষীবাহিনী নিয়ে যেসব প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে, তিনি সেসব নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ বই আমাদের জাতীয় ইতিহাসের উত্থান-পতনময় কালপর্বের তাৎপর্যপূর্ণ দলিলবিশেষ। 

Reviews

ইতিহাসের বিচারে রক্ষীবাহিনী

| 12/11/2019

জাতীয় রক্ষীবাহিনী—সাধারণের কাছে পরিচিত রক্ষীবাহিনী হিসেবে, এখন ইতিহাসের বিষয় হলেও এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে এ বাহিনী গঠিত হওয়ার পর এর দায় এসে দলটির ওপরেই পড়ে; যদিও আওয়ামী লীগও এখন এর দায়দায়িত্ব নিতে তেমন আগ্রহী নয়; ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগ ভেঙে আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে বাকশাল গঠিত হলে দুই পক্ষে বাগ্যুদ্ধের অন্যতম বিষয় হয়েছিল রক্ষীবাহিনী। এ ছাড়া রাজনীতির মঞ্চে এত দিন যাঁরা রক্ষীবাহিনীর কঠোর সমালোচক ছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ এখন মহাজোট সরকারের শরিক এবং কেউবা মন্ত্রীও। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে বামপন্থীদের শায়েস্তা করতেই রক্ষীবাহিনী গঠন করা হয়েছিল। আর আওয়ামী লীগের দাবি, স্বাধীনতাবিরোধী ও সমাজবিরোধী শক্তির হাত থেকে জনগণকে রক্ষা করাই ছিল এ বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্য। সময়ই হয়তো এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারে।রক্ষীবাহিনী নিয়ে রাজনীতির মঞ্চে অনেক বাদানুবাদ হলেও গবেষণামূলক লেখালেখি কমই হয়েছে। সেইদিক থেকে বলা যায়, আনোয়ার উল আলমের রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা আলোচনার সূচনা ঘটাল। লেখক নিজে এই বাহিনীর গঠন-প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এবং ডেপুটি পরিচালক পদে আসীন ছিলেন। সে ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষে রক্ষীবাহিনীর আলোচনায় পুরোপুরি নির্মোহ থাকা কঠিনই বটে। দ্বিতীয়ত, তিনি যে রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, সেই আদর্শ প্রতিষ্ঠাই যদি এই বাহিনীর লক্ষ্য হয়ে থাকে, তাহলে যাঁরা এই আদর্শের বিরোধী ছিলেন, তাঁদের প্রতি বাহিনীর দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন হতে বাধ্য। একটি রাষ্ট্রীয় বাহিনী আইনের প্রতিপালন করতে গিয়ে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য দেখাতে পারে না। তবে এই বৈষম্য যে কেবল রক্ষীবাহিনীই দেখিয়েছে তা নয়, বাংলাদেশে পূর্বাপর সব সরকারই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে হুকুমবরদার হিসেবে ব্যবহার করতে অভ্যস্ত। রক্ষীবাহিনী গঠনের পটভূমি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লেখক লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে দেশের বেশ কিছু অঞ্চল, বিশেষ করে যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে।...দেশটা স্বাধীন হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে আরও কয়েকটি সমস্যা সবার দৃষ্টিগোচর হয়। একশ্রেণীর উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র-যুবক মুক্তিযোদ্ধাদের নাম করে ঢাকা শহরে হাইজ্যাক করতে থাকে।’ কিন্তু এই হাইজ্যাকাররা যে ক্ষমতাসীন দলেরই সদস্য ছিল, সেই তথ্য আমরা এ বই থেকে জানতে পারি না। তবে রক্ষীবাহিনী নিয়ে জনমনে যেসব প্রশ্ন এখনো বিরাজমান, সেসব প্রশ্নের জবাব দিতে চেষ্টা করেছেন লেখক। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রচার চালিয়ে আসছিল যে সেনাবাহিনীর চেয়ে রক্ষীবাহিনীকে বেশি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো। লেখক তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছেন, এই অভিযোগ মোটেই সত্য নয়। তবে তিনি এই বইয়ে যে বিষয়টি উল্লেখ করেননি, তা হলো স্বাধীনতা-পরবর্তী রাজনীতির রসায়ন। সমস্যাটি ছিল রাজনৈতিক; যা কোনো বাহিনী দিয়ে নিরসন করা সম্ভব নয়। তৎকালীন সরকার এই সত্য উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছিল। ইতিহাসের কৌতুক হলো, একদা যে সেনাবাহিনী রক্ষীবাহিনীকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবত, সেই সেনাবাহিনীই পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাদের আত্তীকরণ করে নেয়। তাহলে কি রক্ষীবাহিনীর বিরুদ্ধে সব প্রচারণা মিথ্যা ছিল? এ বিষয়ে লেখকও বিস্তারিত বলেননি। তবে রক্ষীবাহিনী সম্পর্কে জনমনে যে নেতিবাচক ধারণা ছিল বা আছে, বইয়ে সেটি অপনোদনের চেষ্টা করেছেন লেখক। তিনি লিখেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর বাড়ি দখল করে নিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগের তৎকালীন নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। পরে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে রক্ষীবাহিনী বাড়িটি উদ্ধার করে। কিন্তু যাঁরা রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তির কাছে নালিশ জানাতে পারেননি, মুখ বুজেই তাঁদের সবকিছু সহ্য করতে হয়েছে। বরিশালে অনুরূপ ঘটনা ঘটেছে আমির হোসেন আমু ও আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর প্ররোচনায়। তাঁরা বিরোধী দলের এক নেতার বাড়িতে অস্ত্র আছে বলে ভুল খবর দেন। কিন্তু রক্ষীবাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি করে দেখতে পান, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতেই তাঁদের ভুল খবর দেওয়া হয়েছিল। এ রকম ‘ভুল খবরে’ অনেকের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল, সন্দেহ নেই। লেখক সিরাজ শিকদারের বিষয়টি উল্লেখ করে দায়মুক্তির চেষ্টা করেছেন। কিন্তু রক্ষীবাহিনী দায়মুক্ত হলেও সেই সময়কার সরকার দায়মুক্ত হতে পারেনি। তাঁর ভাষায়, সিরাজ শিকদার ‘যত দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীই’ হোন না কেন, ক্রসফায়ারের গল্প না সাজিয়ে বিচার করে তাঁকে শাস্তি দেওয়া যেত। আনোয়ার উল আলম রক্ষীবাহিনীর সত্য-মিথ্যা বইয়ে রক্ষীবাহিনী সম্পর্কে জনগণের অনেক কৌতূহল, জিজ্ঞাসা ও অভিযোগের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন; তাঁর এই জবাব হয়তো খণ্ডিত এবং কারও কারও কাছে একপেশেও মনে হতে পারে। কিন্তু তিনি যে ইতিহাসের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে আলোচনাটি শুরু করেছেন, সে জন্য তাঁকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। বইটি ইতিহাসের ছাত্র-শিক্ষক-গবেষক তো বটেই; সাধারণ পাঠকদেরও অবশ্যপাঠ্য।